
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার খবরের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এক ডলারের বেশি বেড়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর সেই আশঙ্কার সরাসরি প্রতিফলন দেখা গেছে তেলের বাজারে।
সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোরের দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ০৮ ডলার বা ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ১৮ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে ৯২ সেন্ট বা ১ দশমিক ১০ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়িয়েছে ৮৪ দশমিক ৩২ ডলারে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা যত বাড়বে, তেলের সরবরাহ ও পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তাও তত বাড়তে পারে। ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর রয়টার্সকে বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ার একটি পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তবে এই পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্তও এটি চলতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে শুধু অপরিশোধিত তেলের দাম নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ অঞ্চল হওয়ায় সেখানে যেকোনো সামরিক সংঘাতই তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তাই যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাতের গতিপথের দিকে এখন গভীর নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক বাজারসংশ্লিষ্টরা।