
দেখতে দেখতে দশ বছর হয়ে গেল আমাদের প্রিয় দাদি আর নেই। সময় কত দ্রুত চলে যায়! ক্যালেন্ডারের পাতায় দশটি বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু হৃদয়ের পাতায় দাদির স্মৃতিগুলো আজও যেন ঠিক আগের মতোই অমলিন।
ছোটবেলার স্মৃতি , আনন্দমুখর মুহূর্ত আমাদের সবার কাছেই খুব অসাধারণ ভূমিকা রাখে। বাবা মা ভাই বোন সবার সাথেই আনন্দে কেটে যায়। বাবা মা ছাড়াও আমাদের সবার দাদু-নানু এদের সাথে মুহূর্ত গুলো খুব ভিন্ন হয়। আমার ছোট বেলার দাদির সাথে কাটানো মুহূর্ত ছিল খুব অসাধারণ।
আজ আমার দাদির দশম মৃত্যুবার্ষিকী। বছর এর পর বছর চলে গেলেও দাদির সাথে কাটানো সময় গুলো ছিল খুবই সুন্দর। আমার দাদির নাম বানেছা খাতুন। ৬৮ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। ছোটবেলায় ঈদ এর ছুটিতে যখন দাদুর বাসায় যেতাম, খুব আদর করে আমাদের কে আগলে রাখতো। পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজের কারণে দাদির সাথে বেশি সময় কাটানো যেত না। কিন্তু ঈদ কিংবা গ্রীস্মর অথবা শীতের ছুটিতে খুব সুন্দর মুহূর্ত আছে আমার দাদির সাথে। বেশির ভাগ সময় আমরা ঈদ এর ছুটি তে দাদুর বাড়ি যেতাম। ঈদ এর সকাল ছিল আমাদের কাছে আনন্দ মুখর। খুব সকালে মা আমাদের ঘুম থেকে উঠিয়ে ঈদের জামা কাপড়ে সাজিয়ে দিতেন। দাদির হাতের সেমাই আর পরোটা খেয়ে দিন শুরু হতো। সেই কালে সালামী ছিল নতুন ২ টাকা , যার জন্য আমরা সব ভাই বোন লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতাম। দাদি একজন একজন করে সবাই কে সালামী দিয়ে যেতেন। এখন আর আগের মতো সেই মুহূর্ত হয়না। খুব অলস সময় কাটে ঈদ এর দিন।
দাদি আমাদের খুব আদর করতেন। ঈদ এর ছুটি শেষে যখন নিজের বাড়ি ফেরার সময় আসতো , অঝোরে দাদির চোখ দিয়ে পানি বের হতো। তখন বুঝতাম না দাদি কেন কান্না করে। আজকে দাদি কে মনে পড়লেও দেখা যায় না। প্রিয় মানুষ আসলে কখনো পুরোপুরি চলে যান না। তাঁরা থেকে যান আমাদের স্মৃতিতে, আমাদের কথায়, আমাদের অভ্যাসে, আমাদের হৃদয়ের গভীরে। দাদি নেই, কিন্তু তাঁর ভালোবাসা আছে। তাঁর স্মৃতি আছে। তাঁর সঙ্গে কাটানো দিনগুলো আছে।
দাদির এই মৃতবার্ষিকী তে আমরা সবাই দোআ মাফিল করে তার জন্য শুভ কামনা করি। যেন তিনি পরকালে খুব ভালো থাকেন। আমার দাদির মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্ত ছিল খুব কষ্টকর। ক্যান্সার এর মতো কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে তার জীবন এর ইন্তেকাল ঘটে। দাদির সাথে কাটানো সেই শেষ মুহূর্ত আজকেও খুব মনে পরে। সারা রাত দাদির পাশে বসে ছিলাম যেন তিনি ডাক দিলেই হাতের কাছে আমি তাকে সব এগিয়ে দিতে পারি। শেষ মুহূর্তে দাদি আমার সাথে রাতে ঘুমাতেন, আর কান্না করে বলতেন তার সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। তিনি আবার সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে থাকবেন। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা তে তিনি আমাদের কাছে বিদায় নিয়ে চলে যান।
দাদির এই ভালোবাসা কখনোই আর কোথাও পাওয়া যাবে না। তবে আমরা সবাই তার জন্য দোআ করে তার শান্তি কামনা করি। আল্লাহ যেন তাকে পরকালে ভালো রাখে। আমিন।
উল্লেখ্য, দৈনিক বঙ্গলোক’র সম্পাদক, বাংলাদেশ সাংবাদিক অধিকার ফোরাম (বিজেআরএফ)’র সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমানের মা বানেছা খাতুন আমার দাদি।