News update
  • জাতিসংঘে আজ প্রথমবার ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান     |     
  • অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড     |     
  • যুক্তরাষ্ট্রকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরানের     |     
  • কিশোর গ্যাং দমনে কুমিল্লায় সাঁড়াশি অভিযান: আটক ৬২৪     |     
  • এল নিনোর প্রভাবে ছয় মাসে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা     |     
জীবনযাপন ডেস্ক লাইফস্টাইল 2026-09-12, 8:16am

মা-বাবার যত্ন: দায়িত্ব নয়, সন্তানের সবচেয়ে বড় আমানত

ma-babar-jatno-4cad24f7c892289616953862d9c5859b1789179376.png


জীবনের শুরুটা হয় মা-বাবার হাত ধরে। হাঁটতে শেখা থেকে শুরু করে কথা বলা, পড়াশোনা, নিজের পায়ে দাঁড়ানো  সন্তানের প্রতিটি অর্জনের পেছনে নীরবে কাজ করে যান তারা। সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে গিয়ে নিজেদের চাওয়া-পাওয়া, আরাম-আয়েশ এমনকি অনেক সময় স্বাস্থ্যের কথাও ভুলে যান। অথচ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই মা-বাবারই প্রয়োজন হয় সন্তানের একটু সময়, একটু সঙ্গ, একটু যত্ন।


মা-বাবার যত্ন শুধু তাদের খাবার, ওষুধ বা চিকিৎসার ব্যবস্থা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের সঙ্গে কথা বলা, মন দিয়ে শোনা, একসঙ্গে সময় কাটানো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়াও যত্নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


বয়স বাড়লে বদলে যায় প্রয়োজন


বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের শারীরিক সক্ষমতা কমে আসে। হাঁটাচলায় সমস্যা, চোখে কম দেখা, কানে কম শোনা, স্মৃতিশক্তির কিছুটা দুর্বলতা কিংবা নানা দৈনন্দিন কাজে অন্যের সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে। এসব পরিবর্তনকে বিরক্তির কারণ হিসেবে না দেখে স্বাভাবিক বার্ধক্যের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা জরুরি।


বয়স্ক মা-বাবাকে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো, প্রয়োজনীয় ওষুধ সময়মতো খাওয়ার বিষয়টি খেয়াল রাখা এবং জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সন্তানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে এর পাশাপাশি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।


সময় দেওয়াই সবচেয়ে বড় যত্ন


অনেক সন্তান মনে করেন, অর্থ দিয়ে মা-বাবার সব প্রয়োজন পূরণ করলেই দায়িত্ব শেষ। বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়। বৃদ্ধ মা-বাবার কাছে সন্তানের সময় অনেক সময় অর্থের চেয়েও মূল্যবান।


ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতিদিন কিছু সময় তাদের সঙ্গে কথা বলা, দিনের খবর নেওয়া, পুরোনো স্মৃতি নিয়ে আলোচনা করা কিংবা একসঙ্গে খাবার খাওয়া তাদের একাকিত্ব অনেকটাই কমাতে পারে। দূরে থাকলে নিয়মিত ফোন বা ভিডিও কলে কথা বলাও গুরুত্বপূর্ণ।


তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিন


বয়স হয়ে গেছে বলে মা–বাবার মতামতের মূল্য কমে যায় না। বরং জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে তারা অনেক বিষয়ে বাস্তবসম্মত পরামর্শ দিতে পারেন। পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাদের মতামত জানতে চাওয়া তাদের আত্মমর্যাদা ও মানসিক শক্তি বাড়ায়।


তাদের পছন্দ-অপছন্দ, দৈনন্দিন অভ্যাস এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকেও যথাসম্ভব সম্মান করা উচিত। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা সব সিদ্ধান্ত নিজেরা নিয়ে নেওয়া অনেক সময় তাদের মধ্যে অসহায়ত্বের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।


খাবার ও ওষুধে নজর


বয়স বাড়ার সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা ভালো। পর্যাপ্ত পানি পান করছেন কি না, খাবার ঠিকমতো খাচ্ছেন কি না এসব বিষয়ও খেয়াল রাখতে হবে।


একইভাবে নিয়মিত ওষুধ সেবনের প্রয়োজন থাকলে ওষুধের নাম, সময় ও মাত্রা ঠিকভাবে মেনে চলতে সহযোগিতা করা জরুরি। নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


একাকিত্বকে অবহেলা নয়


বৃদ্ধ বয়সে অনেক মা-বাবা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। সন্তান কর্মসূত্রে দূরে থাকেন, নাতি-নাতনিরাও ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে ঘরে থেকেও তারা একাকিত্বে ভুগতে পারেন।


তাই তাদের সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখতে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সময় কাটানো, ধর্মীয় বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া কিংবা পছন্দের কোনো কাজে যুক্ত থাকা মানসিকভাবে উপকারী হতে পারে।


সম্মান ও ভালোবাসা


মা-বাবার যত্নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্মান। বয়সজনিত দুর্বলতার কারণে তাদের সঙ্গে বিরক্তি নিয়ে কথা বলা, উচ্চস্বরে কথা বলা কিংবা ছোট করে দেখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


যে মানুষটি সন্তানের অসংখ্য ভুল ক্ষমা করেছেন, সন্তানের সামান্য সাফল্যে আনন্দিত হয়েছেন, সেই মানুষটির বয়সের কারণে কিছুটা নির্ভরশীল হয়ে পড়াকে বোঝা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটিকে জীবনের স্বাভাবিক চক্র হিসেবে গ্রহণ করা দরকার।


শৈশবে মা-বাবা সন্তানের হাত ধরে হাঁটতে শেখান। সময়ের পরিবর্তনে একদিন সেই সন্তানের হাত ধরেই তাদের পথ চলতে হয়। এই পরিবর্তনকে ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে গ্রহণ করাই সন্তানের প্রকৃত কর্তব্য।


মা-বাবার যত্নের জন্য সব সময় বড় আয়োজন প্রয়োজন হয় না। একটি ফোন, কয়েক মিনিটের কথা, পাশে বসে থাকা, পছন্দের খাবার এনে দেওয়া কিংবা চিকিৎসকের কাছে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার মতো ছোট ছোট কাজও তাদের কাছে অনেক বড় ভালোবাসা হয়ে উঠতে পারে।


জীবনে অর্থ, সম্পদ ও সাফল্য অর্জনের দৌড়ে আমরা অনেক সময় সবচেয়ে কাছের মানুষগুলোর জন্য সময় দিতে ভুলে যাই। কিন্তু মা-বাবার জীবনের শেষ অধ্যায়ে আমাদের উপস্থিতিই হতে পারে তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।


তাই মা-বাবা পাশে থাকতেই তাদের যত্ন নেওয়া, সময় দেওয়া এবং ভালোবাসা প্রকাশ করা জরুরি। কারণ চলে যাওয়ার পর যত অনুশোচনাই হোক, তখন আর ফিরে পাওয়া যায় না সেই মানুষ দুজনকে-যাদের হাত ধরেই আমাদের পৃথিবীতে আসা।