
ফ্যাশন দুনিয়ায় আবারও ফিরছে ছোট আকারের অলংকারসমৃদ্ধ ব্যাগ। বড় ও ব্যবহারিক টোট ব্যাগের বিপরীতে এবার জনপ্রিয়তা পাচ্ছে পুঁতি, রঙিন সুতা, ধাতব অলংকার ও বিচিত্র কারুকাজে তৈরি মিনিব্যাগ। হাতে বহন করা এসব ব্যাগ দেখতে অনেকটা গয়নার মতো। প্রয়োজনীয় জিনিস বহনের চেয়ে পোশাকের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলাই যেন এগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য।
হলিউড তারকা কেন্ডাল জেনার, সংগীতশিল্পী এএসএপি রকি ও অভিনেত্রী হান্টার শ্যাফারের মতো পরিচিত মুখদের হাতেও দেখা যাচ্ছে এসব ছোট ব্যাগ। প্যারিসের ফ্যাশন শো থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে এ প্রবণতা।
৮ নভেম্বর প্রকাশিত হংকংভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (এসসিএমপি) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জো সুয়েনের লেখা ‘হোয়াই চ্যানেল, ডিওর অ্যান্ড সেলিন আর রিভাইভিং দ্য আর্টিসানাল মিনি-ব্যাগ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যানেল, ডিওর, সেলিন ও ক্লোয়ির মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের নতুন সংগ্রহে ছোট ও কারুকাজসমৃদ্ধ ব্যাগ বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ফ্যাশনে ‘অ্যান্টি-টোট’ প্রবণতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বড় ব্যাগের ব্যবহারিক সুবিধা ও আড়ম্বরহীন বিলাসিতার প্রতি যে ঝোঁক ছিল, তার বিপরীতে এখন ফ্যাশনপ্রেমীরা এমন অনুষঙ্গ খুঁজছেন, যা দেখতে আকর্ষণীয় এবং পোশাকে আলাদা মাত্রা যোগ করে। ছোট অলংকারসমৃদ্ধ ব্যাগ সেই চাহিদা পূরণ করছে।
ছোট ব্যাগের এ প্রবণতায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ফরাসি বিলাসবহুল ব্র্যান্ড চ্যানেল। সাম্প্রতিক হাউট কুতুর প্রদর্শনীতে স্বর্ণকার প্রতিষ্ঠান গোসাঁর (Goossens) সঙ্গে তৈরি বেশ কয়েকটি ব্যতিক্রমী মিনিব্যাগ প্রদর্শন করেছে ব্র্যান্ডটি। এসব ব্যাগের নকশায় সোনালি রঙের শিম, মুরগি ও ভালুকের অবয়ব ব্যবহার করা হয়েছে।
এর আগে চ্যানেলের ২০২৬ সালের মেতিয়ে দার (Métiers d’Art) প্রদর্শনীতেও আপেল ও কফি বিনের আদলে তৈরি ছোট ব্যাগ দেখা গেছে। নিউইয়র্কের ডাকনাম ও কফি সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এসব নকশা তৈরি করা হয়।
ছোট ব্যাগের নকশায় নিজস্ব বৈচিত্র্য এনেছে অন্য ব্র্যান্ডগুলোও।
ড্রিস ভ্যান নোটেন তাদের ব্যাগে রংধনুর মতো রঙের সূচিকর্ম ও রেজিনের হাতল ব্যবহার করেছে। সেলিন এনেছে ক্রোশের কাজ করা ছোট থলে ও রঙিন বোনা অলংকার। অন্যদিকে ডিওর হালকা ডেনিমের সঙ্গে রোকোকো শৈলীর অলংকরণ যুক্ত করেছে।
ক্লোয়ি তাদের শরৎ-শীত ২০২৬ সংগ্রহে লেবু ও পেঁপের আদলে তৈরি পিতলের অলংকারযুক্ত মিনিব্যাগ এনেছে। এতে ব্র্যান্ডটির স্বাভাবিক বোহেমিয়ান নকশায় এসেছে নতুন মাত্রা।
এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে ডিজাইনার কনার আইভসের সংগ্রহে পুঁতি ও ঝালরযুক্ত ছোট ব্যাগ প্রদর্শিত হয়েছে। মিনিড্রেস ও একই ধরনের বেল্টের সঙ্গে এসব ব্যাগের সমন্বয় ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ফ্যাশন বিশ্লেষকদের মতে, মিনিব্যাগের জনপ্রিয়তা কেবল আকারের পরিবর্তন নয়, বরং পোশাক ও অনুষঙ্গ ব্যবহারের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও তুলে ধরছে। আগে যেখানে বড় ব্যাগে প্রয়োজনীয় সবকিছু বহনের প্রবণতা ছিল, এখন সেখানে ব্যক্তিত্ব ও রুচি প্রকাশের জন্য ছোট ব্যাগ ব্যবহারের আগ্রহ বাড়ছে।
এ ধরনের ব্যাগের মধ্যে ‘মিনোডিয়ের’ (Minaudière) ও ‘রেটিকিউল’ (Reticule) বিশেষভাবে পরিচিত। মিনোডিয়ের সাধারণত শক্ত কাঠামোর ওপর তৈরি ছোট, অলংকারসমৃদ্ধ সন্ধ্যাকালীন ব্যাগ। অন্যদিকে রেটিকিউল হলো ছোট আকারের হাতে বহনযোগ্য থলিজাতীয় ব্যাগ।
তবে বড় ব্যাগের ব্যবহার একেবারে হারিয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। বরং ফ্যাশনে এখন ব্যবহারিক বড় ব্যাগের পাশাপাশি শৈল্পিক ও অলংকারসমৃদ্ধ ছোট ব্যাগের সহাবস্থান দেখা যাচ্ছে।
ফ্যাশন দুনিয়ার এ পরিবর্তনে কারুকাজ, ব্যক্তিগত রুচি ও সৃজনশীলতার গুরুত্ব বাড়ছে। ফলে ছোট্ট একটি ব্যাগও এখন পোশাকের অন্যতম আকর্ষণীয় অনুষঙ্গ হয়ে উঠছে।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট