
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে আদালতে পাঠানোর সময় থানার ভেতরে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই নেতার স্বজন ও সমর্থক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে টঙ্গী পূর্ব থানার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা আ. মতিনকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় কয়েকজন ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ ও ‘জয় জননেত্রী শেখ হাসিনা’ স্লোগান দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন টঙ্গীর মরকুন এলাকার আতিকুর রহমানের ছেলে মাহদী হাসান (২৬), একই এলাকার মৃত আব্দুর রউফের ছেলে হারুন রশীদ (৩৪), মজিবুর রহমানের মেয়ে জহুরা বেগম (৫৫), মো. কাউছার আলীর মেয়ে শারমিন সুলতানা (৩৭) এবং মৃত শহীদ মিয়ার মেয়ে শাহিদা আক্তার (৩৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে টঙ্গীর ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি আ. মতিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন রোববার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানোর জন্য থানায় নেওয়া হয়। পরে প্রিজন ভ্যানে তোলার প্রস্তুতির সময় তার স্বজন ও কয়েকজন সমর্থক থানার প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
একপর্যায়ে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে শুরু করেন। এতে থানার ভেতরের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি পুলিশের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজনকে আটক করে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচজন ছাড়াও দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, থানার মতো সংরক্ষিত ও নিরাপত্তাসংবেদনশীল এলাকায় অনুমতি ছাড়া রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতেও পুলিশ কাজ করছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম বলেন, থানার নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নেই। থানার অভ্যন্তরে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র।