News update
  • ক্যান্টনমেন্ট থানার সেই ওসি গ্রেপ্তার     |     
  • আবারও ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি নজরুল      |     
  • পবিত্র মক্কায় জরুরি সতর্কতা জারি, সৌদিজুড়ে হামলার আতঙ্ক     |     
  • এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের ইমরানুর     |     
  • ডিজিটাল ব্যাংক চালুর সম্মতি পেল বিকাশ, রবি ও বাংলালিংকসহ ৪ প্রতিষ্ঠান     |     
বিনোদন ডেস্ক বিনোদন 2026-09-03, 7:24am

বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র ‘মহানায়ক’

uttom-698376f00495ced323dac6ee07f401841788398670.jpg


বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিছু নাম কেবল অভিনয়শিল্পীর পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয় তাঁরা হয়ে ওঠেন একটি যুগের প্রতীক। উত্তম কুমার তেমনই এক কিংবদন্তি। তাঁর হাসি, চোখের অভিব্যক্তি, সংলাপ বলার ভঙ্গি আর পর্দায় উপস্থিতি বাঙালি দর্শকের হৃদয়ে এমনভাবে জায়গা করে নিয়েছিল যে, আজও তিনি ‘মহানায়ক’ নামে সমুজ্জ্বল।


১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়, যিনি পরবর্তীকালে উত্তম কুমার নামে চলচ্চিত্রজগতে খ্যাতি অর্জন করেন। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে চলচ্চিত্রের জগতে নিজের জায়গা তৈরি করা তাঁর জন্য সহজ ছিল না। একের পর এক ছবির ব্যর্থতার পরও তিনি হাল ছাড়েননি। অবশেষে ধীরে ধীরে তাঁর অভিনয় প্রতিভা দর্শকের নজরে আসে।


উত্তম কুমারের চলচ্চিত্রজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আসে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবির মাধ্যমে। সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর জুটি বাংলা সিনেমায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। পর্দায় উত্তম-সুচিত্রার রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করে। ‘হারানো সুর’, ‘সপ্তপদী’, ‘সাগরিকা’, ‘পথে হলো দেরি’, ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘সপ্তপদী’ সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে তাঁদের জুটি হয়ে ওঠে বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অধ্যায়।


তবে উত্তম কুমার শুধু রোমান্টিক নায়ক ছিলেন না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের অভিনয়ের পরিসরও বিস্তৃত করেন। ‘নায়ক’ ছবিতে সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় তাঁর অভিনয় ছিল এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একজন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকার অন্তর্দ্বন্দ্ব, সাফল্যের আড়ালে থাকা সংকট ও মানসিক টানাপোড়েনকে তিনি অসাধারণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন।


এ ছাড়া **‘চিড়িয়াখানা’, ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’, ‘ঝিন্দের বন্দী’, ‘সপ্তপদী’, ‘বিপাশা’, ‘জীবন তৃষ্ণা’**সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয়ের বৈচিত্র্য প্রমাণ করে তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক অভিনেতা।


উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা শুধু পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশেও তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা ছিল। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের গান, সংলাপ ও চরিত্র সাধারণ মানুষের সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছিল। পর্দায় তাঁর ব্যক্তিত্ব, পোশাক, চুলের স্টাইল থেকে শুরু করে কথা বলার ধরন সবকিছুই একসময় বাঙালি তরুণদের অনুকরণের বিষয় হয়ে উঠেছিল।


১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে এই মহানায়কের জীবনাবসান ঘটে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। কিন্তু একজন শিল্পীর শারীরিক মৃত্যু তাঁর শিল্পকে থামাতে পারেনি।


আজও উত্তম কুমারের সিনেমা দেখলে দর্শক ফিরে যান বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণালি এক সময়ে। নতুন প্রজন্মের কাছেও তাঁর অভিনয় আকর্ষণ হারায়নি। সময় বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, চলচ্চিত্রের ভাষা বদলেছে কিন্তু মহানায়ক উত্তম কুমারের আবেদন আজও অমলিন।


বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে অসংখ্য তারকা এসেছেন, অনেকেই দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন। কিন্তু ‘মহানায়ক’ পরিচয়টি যেন চিরকাল একজনের জন্যই উত্তম কুমার। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও স্মৃতি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরকাল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবে।