News update
  • গুলশানে গাড়ি চাপায় পথচারীর মৃত্যু, ৯ লাখ টাকায় আসামিদের সঙ্গে আপোস     |     
  • টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব নি‌শ্চি‌তে জোর বাংলা‌দে‌শের     |     
  • জাতিসংঘে আজ প্রথমবার ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান     |     
  • অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড     |     
  • যুক্তরাষ্ট্রকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরানের     |     
রংপুর প্রতিনিধি প্রথম পাতা 2026-09-03, 6:41am

রংপুরে সাংবাদিক হত্যা: একজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন

journalist-82ad21b5762c06c3eb611a807982ab761788396061.jpg

সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান। ছবি: সৃংগৃহীত


রংপুরের স্থানীয় দৈনিক যুগের আলোর সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান হত্যা মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় মূল অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।


বুধবার দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন।


মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন রুবেল ওরফে হেকরম। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন এলিন ও শুভ কুমার। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই পলাতক ছিলেন।


রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী বেলাল এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ।


তবে আদালতের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সাংবাদিক উৎস রহমানের পরিবার। তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।


যেভাবে হত্যা করা হয়


মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রংপুরের স্থানীয় দৈনিক যুগের আলো কার্যালয়ে যান সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান। এরপর রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।


পরদিন সকালে নগরীর ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা নুরজাহান বেগম নুরী রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।


মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। পরে আদালত ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।


দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে বুধবার মামলাটির রায় ঘোষণা করেন আদালত। মামলা নিষ্পত্তিতে সময় লেগেছে ১০ বছর ৯ মাসের বেশি।


রায়ে অসন্তুষ্ট পরিবার


রায় ঘোষণার পর নিহত সাংবাদিকের মা ও মামলার বাদী নুরজাহান বেগম বলেন, ‘এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’


বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, মামলায় জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিকে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা হিসেবে দাবি করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, সাংবাদিক উৎস রহমানকে হত্যার জন্য অর্থ দেওয়ার অভিযোগও মামলায় ছিল। কিন্তু আদালত তাঁকে খালাস দিয়েছেন।


রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলালও রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘মামলার মূল অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে সাংবাদিক উৎস রহমানকে হত্যা করানো হয়েছে। অথচ আদালত হত্যাকাণ্ডের সেই মাস্টারমাইন্ডকেই বেকসুর খালাস দিয়েছে। এ রায়ে আমরা আইনজীবীসহ নিহতের পরিবার সংক্ষুব্ধ। এ মামলার বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’


সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া


রায়ের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতারাও।


বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন রংপুর জেলা সভাপতি মমিনুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘সবাই জানে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অর্থের জোগানদাতা কে এবং কার নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু আদালত প্রমাণের অভাবে সেই মূলহোতাকে মামলা থেকে খালাস দিয়েছে। আমরা মনে করি, এই রায়ের মাধ্যমে নিহত সাংবাদিকের পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’


দৈনিক যুগান্তরের রংপুর ব্যুরো ও আমাদের প্রতিদিনের সম্পাদক মাহবুব রহমান হাবু বলেন, ‘এই রায় সন্তোষজনক নয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক, আর মূলহোতাও বেকসুর খালাস পেয়েছেন সব মিলিয়ে বিষয়টি বিস্ময়কর। আমরা মনে করি, উচ্চ আদালতে গেলে সাংবাদিক উৎস রহমান হত্যার মাস্টারমাইন্ড খালাস পাবেন না।’


এক দশক পর রায়


সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান হত্যাকাণ্ডের এক দশকের বেশি সময় পর বুধবার মামলাটির রায় হলো। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ তদন্ত শেষে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলেও পরবর্তী সময়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।


দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্কসহ বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে মামলার অন্যতম আলোচিত আসামি জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিকে খালাস দেওয়া হয়।


রায়ের পর নিহত সাংবাদিকের পরিবার ও বাদীপক্ষ উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এ মামলার আইনি লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না।