News update
  • গুলশানে গাড়ি চাপায় পথচারীর মৃত্যু, ৯ লাখ টাকায় আসামিদের সঙ্গে আপোস     |     
  • টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব নি‌শ্চি‌তে জোর বাংলা‌দে‌শের     |     
  • জাতিসংঘে আজ প্রথমবার ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান     |     
  • অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড     |     
  • যুক্তরাষ্ট্রকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরানের     |     
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি খবর 2026-09-03, 6:33am

চার দিন পর চালু হতেই ডুবোচরে আটকা ফেরি, উৎকণ্ঠায় শত শত যাত্রী

passengert-a862549db8e583cea6f074dfcb10a4671788395592.jpg

ফেরিতে থাকা যাত্রীরা মাঝসমুদ্রে আটকা পড়ে চরম উৎকণ্ঠায় রাত কাটাচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত


বৈরী আবহাওয়ার কারণে টানা চার দিন বন্ধ থাকার পর চালু হতেই চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলে ডুবোচরে আটকা পড়েছে যাত্রী ও যানবাহনবোঝাই ফেরি ‘কপোতাক্ষ’। 


বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর নাব্যতাসংকটের কারণে পলিমাটিতে আটকে পড়ে ফেরিটি।


এতে ফেরিতে থাকা যাত্রীরা মাঝসমুদ্রে আটকা পড়ে চরম উৎকণ্ঠায় রাত কাটাচ্ছেন। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি ফেরি থেকে নামারও কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।


ফেরিটিতে দুটি যাত্রীবাহী বাস, সাতটি ছোট-বড় ট্রাক এবং বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) হিসাবে ফেরিতে প্রায় ১০০ জন যাত্রী রয়েছেন। তবে ফেরিতে থাকা একাধিক যাত্রীর দাবি, সেখানে অন্তত তিন শতাধিক আরোহী রয়েছেন।


আটকে পড়া যাত্রীরা জানান, ফেরির ক্যানটিনে পর্যাপ্ত খাবার নেই। এ ছাড়া সংকটের সুযোগ নিয়ে সাধারণ শুকনো খাবারও অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।


ফেরির যাত্রী আরমান জারিফ বলেন, ‘চারদিকে পানি আর থকথকে কাদা। ফেরি থেকে নেমে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ক্যানটিনে খাবারের দামও অস্বাভাবিক। ১০ টাকার চানাচুরের প্যাকেট ২৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।’


আরেক যাত্রী ওমর ফারুক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অন্ধকারের মধ্যে সাগরে আমরা। আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা সবার মধ্যে। কখন চট্টগ্রামে পৌঁছাব, জানি না। এমন এক জায়গায় আটকে পড়েছি, নেমে বাড়িতেও চলে যেতে পারব না।’


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে মূল ভূখণ্ডের দিকে প্রায় ৩০০ মিটার ভেতরে পন্টুন স্থাপন করা হয়েছে। তবে নিয়মিত খননকাজ না হওয়ায় ওই এলাকায় নাব্যতাসংকট প্রকট হয়েছে। ফলে ভরা জোয়ার ছাড়া পন্টুনে ফেরির প্রবেশ ও বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।


ফেরির মাস্টার সাইফুল ইসলাম জানান, রাতের জোয়ার এলে ফেরিটি ভেসে উঠতে পারে। তখন বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশে ফেরি চলাচল আবার শুরু করা সম্ভব হবে।


তবে জোয়ার-ভাটার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে ফেরি চালানোর কারণে মাস্টারের গাফিলতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক (পোর্ট অফিসার) নয়ন শীল।


তিনি বলেন, ‘উপকূলে ফেরি চালানোর ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটা অনুযায়ী সময়সূচি নির্ধারণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ফেরির মাস্টার দায়ী।’


এদিকে বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) প্রফুল্ল চৌহান জানিয়েছেন, রাতের জোয়ারে ফেরিটি নিজে থেকে ভেসে না উঠলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে টাগবোটের সাহায্যে ফেরিটিকে ডুবোচর থেকে টেনে মুক্ত করা হবে।


এর আগে বৈরী আবহাওয়ার কারণে টানা চার দিন এই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে ‘কপোতাক্ষ’ গুপ্তছড়া ঘাট থেকে বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ঘাট থেকে কিছু দূর এগোনোর পরই নাব্যতাসংকটের কারণে ফেরিটি আটকে পড়ে।


এটি এই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর একই স্থানে একইভাবে ডুবোচরে আটকে পড়েছিল ‘কপোতাক্ষ’। সে সময় প্রায় ২৫ ঘণ্টা পর তিনটি টাগবোটের সহায়তায় ফেরিটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল।


সন্দ্বীপ চ্যানেলের নাব্যতাসংকট দীর্ঘদিনের। নিয়মিত খনন না হওয়ায় জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল এ নৌপথে ফেরি চলাচল বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ভাটার সময় পন্টুন এলাকায় পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় ফেরি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।


বুধবার ফেরিটি আটকে পড়ার পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে নৌপথটির নাব্যতা ও নিয়মিত ড্রেজিং ব্যবস্থা নিয়ে। দ্রুত ফেরিটি উদ্ধার করে যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নাব্যতা-সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।