
দুর্ঘটনাকবলিত বাস। ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ময়মনসিংহ-ফুলপুর আঞ্চলিক সড়কের আলালপুর এলাকায় খালেক ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন হালুয়াঘাট উপজেলার কারাকান্দা গ্রামের সোসেন আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৪৫) এবং ফুলপুর উপজেলার সিংহেরশ্বর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন (৬০)। নিহত অপর ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। তাঁর পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ময়মনসিংহ থেকে হালুয়াঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ‘ইমাম পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস। বাসটি আলালপুর এলাকার খালেক ফিলিং স্টেশনের কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘শ্যামলী বাংলা পরিবহন’-এর একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের ফলে বাস দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ইমাম পরিবহনের যাত্রী আব্দুর রাজ্জাক নিহত হন। দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে। পরে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তোফাজ্জল হোসেন ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। বর্তমানে নিহত তিনজনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) সুজাউদ্দিন বলেন, আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসকেরা দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জালাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তরের জন্য আবেদন করেছেন।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সদর উপজেলার আলালপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ওই সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কী কারণে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলো, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।