
ছবি- সংগৃহীত
বাংলাদেশি পাটপণ্যের ওপর ভারতের পাল্টা ভর্তুকিবিরোধী শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করতে দেশটির কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স আপিল ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে কমিশন জানায়, ভারতের কাস্টমস ট্যারিফ অ্যাক্ট, ১৯৭৫-এর ৯সি(১) ও ৯সি(২) ধারা অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে আপিল করা সম্ভব। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটের সুতা, টুইন, বস্তা, কাপড় ও হেসিয়ান পণ্যের ওপর তদন্ত শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজ (ডিজিটিআর)।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানিকারকেরা নগদ রপ্তানি প্রণোদনা এবং পাটশিল্পের জন্য বিশেষ আয়কর হারের সুবিধা পেয়েছেন। এ কারণে বাংলাদেশি উৎপাদকদের ওপর পাঁচ বছরের জন্য প্রতি টনে ১০১.৫৪ থেকে ১৪০.০৪ ডলার পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্তে বলা হয়, পর্যালোচনার সময়ের প্রথম প্রান্তিকে বহুমুখী পাটপণ্যে ১৫ শতাংশ এবং পরবর্তী সময়ে ১০ শতাংশ নগদ রপ্তানি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাটশিল্পের জন্য ১০ শতাংশ আয়কর হার প্রযোজ্য, যেখানে সাধারণ করপোরেট করের হার ২৭.৫ শতাংশ।
ভারত প্রস্তাব করেছে, একই চালানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের চেয়ে রপ্তানি ভর্তুকিসংক্রান্ত শুল্কের পরিমাণ বেশি হলেই শুধু অতিরিক্ত অংশ আদায় করা হবে। তবে করছাড়ের কারণে নির্ধারিত শুল্ক পুরোপুরি আদায় করা হবে। বিদ্যমান অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক অপরিবর্তিত থাকবে।
তদন্তে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর আমদানি ২০২১–২২ অর্থবছরের প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার ৭০০ টন থেকে বেড়ে তদন্তকালীন সময়ে প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ টনে পৌঁছেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে সুপারিশটি দিয়েছে বিটিটিসি। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।