
টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানান ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। তবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন তিনি। খবর এনডিটিভির।
ভারতের হয়ে ৬৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন শামি। এই সময়ে বল হাতে শিকার করেছেন ২২৯টি উইকেট। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা ছিলেন তিনি। তবে চোটের কারণে ক্যারিয়ারের শেষ দিকে বারবার মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে।
২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন শামি। চোট কাটিয়ে বাংলার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরলেও জাতীয় দলে আর সুযোগ পাননি এই অভিজ্ঞ পেসার।
টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তায় শামি লেখেন, ‘সাদা জার্সিকে বিদায় জানাচ্ছি, তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলোকে কখনোই নয়। প্রথমবার ভারতের টেস্ট জার্সি গায়ে জড়ানোর সময় আমার একটাই স্বপ্ন ছিল, দেশের জন্য কিছু করা। এরপর প্রতিটি উইকেট, প্রতিটি সংগ্রাম, প্রতিটি চোট এবং প্রতিটি প্রত্যাবর্তন আমাকে নতুন কিছু শিখিয়েছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট আমার কাছে শুধু একটি ফরম্যাট ছিল না, এটি ছিল জীবনের অত্যন্ত বিশেষ একটি অংশ। আজ ভারাক্রান্ত হৃদয় ও অসংখ্য সুন্দর স্মৃতি নিয়ে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি। এই দীর্ঘ যাত্রায় পাশে থাকা প্রতিটি সতীর্থ, কোচ, পরিবারের সদস্য এবং কোটি কোটি ভারতীয় সমর্থককে আন্তরিক ধন্যবাদ। ভালো ও খারাপ, সব সময়েই আপনারা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন।’
২০২৩ সালের জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ছিল শামির ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচ। ওই ম্যাচের পর আর সাদা পোশাকে মাঠে নামা হয়নি তার।
নিজের বিদায়ী বার্তায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ও ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শামি।
তিনি লেখেন, ‘আমার প্রতিভার ওপর আস্থা রাখা, বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়া এবং ক্রিকেটীয় পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য বিসিসিআই ও সিএবির প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনাদের সমর্থন ও বিশ্বাস সব সময় আমার কাছে বিশেষ হয়ে থাকবে।’
বিদায়ী বার্তার শেষাংশে শামি লেখেন, ‘মাঠে আমার শেষ টেস্ট বলটি হয়তো করা হয়ে গেছে, কিন্তু ভারতের হয়ে খেলার গর্ব আমার হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে। ধন্যবাদ, টেস্ট ক্রিকেট।’