
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের ফুট ওভারব্রিজটির পাটাতনের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় ছিদ্র। দুই পাশের চলন্ত সিঁড়িও অচল। রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। সন্ধ্যার পর ব্রিজ এলাকায় মাদকসেবী, পকেটমার ও ছিনতাইকারীদের আনাগোনা বাড়ে বলে অভিযোগ পথচারীদের।
ঝুঁকি নিয়ে এই ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে দেশি-বিদেশি যাত্রী ও সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও ভারী লাগেজ বহনকারীরা পড়ছেন বেশি ভোগান্তিতে।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, ফুট ওভারব্রিজের পাটাতনের বিভিন্ন অংশ ক্ষয়ে গেছে। কোথাও লোহার পাত ভেঙে তৈরি হয়েছে ছিদ্র। কোথাও পাটাতন দুর্বল হয়ে পড়েছে। এসব জায়গা পার হতে পথচারীদের সতর্কভাবে পা ফেলতে হচ্ছে। অসাবধানতায় গর্তে পা আটকে কিংবা ভারসাম্য হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুই পাশের চলন্ত সিঁড়িও বিকল। পর্যাপ্ত আলোর অভাবে সন্ধ্যার পর ব্রিজে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অর্থায়নে নির্মিত ব্রিজটি ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট উদ্বোধন করেন তৎকালীন মেয়র আনিসুল হক। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর নির্মিত এ ব্রিজ বিমানবন্দর এলাকার ব্যস্ত সড়ক পারাপারের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এর পশ্চিম পাশে রয়েছে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন। ফলে বিমানযাত্রী, রেলযাত্রী, তাদের স্বজন ও কর্মজীবী মানুষের নিয়মিত চলাচল রয়েছে এ পথে।
বিদেশ থেকে আসা কিংবা ফ্লাইট ধরতে যাওয়া অনেক যাত্রীর সঙ্গে ভারী লাগেজ থাকে। চলন্ত সিঁড়ি বন্ধ থাকায় সেগুলো নিয়ে সাধারণ সিঁড়ি বেয়ে উঠতে-নামতে হচ্ছে। বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ নষ্ট থাকলেও কার্যকর সংস্কার করা হচ্ছে না। সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলো না থাকায় অপরাধীদের তৎপরতা নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে একা চলাচলকারী নারী ও লাগেজ বহনকারী যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
এদিকে বিমানবন্দর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ। বিমানবন্দর পুলিশ বক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে বিভিন্ন অভিযানে ছিনতাই চক্রের ১৮১ সদস্যসহ মোট ২০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
বিমানবন্দর থানার বিমানবন্দর পুলিশ বক্সের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু সাঈদ বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ছিনতাই করা ছয়টি মোবাইল ফোন ও ১৯৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় করা মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। দেশি-বিদেশি যাত্রীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।
বেহাল ব্রিজটি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১-এর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান বলেন, ব্রিজটি সিটি করপোরেশনের অধীন। নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড এটি নির্মাণ করেছে। এর দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী নাইম রায়হান। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী নাইম রায়হানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
পথচারীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারের জন্য নির্মিত ফুট ওভারব্রিজটিই এখন তাদের কাছে ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে। পাটাতনের ছিদ্র মেরামত, চলন্ত সিঁড়ি সচল এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে সন্ধ্যার পর নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারীরা।