News update
  • কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ     |     
  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু     |     
  • নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী     |     
  • গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়িয়েছে সরকার, আজ থেকেই কার্যকর     |     
মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, বিশেষ সংবাদদাতা : আন্তর্জাতিক 2026-11-07, 2:03pm

জাপানের ১২৮ ব্যাংকে বিপর্যয়, পরবর্তী লক্ষ্য কি ইউরোপ?

1794033118-0b12295bca3c913e6b50b66aa543d060-4118506f4270c9f67c8c256491f105961794038595.jpg


জাপানে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ১২৮টি ব্যাংক। একই সময়ে পৃথক এক সাইবার হামলায় ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

চলতি সপ্তাহে দেশটির আর্থিক খাতে ঘটে যাওয়া এ দুই ঘটনায় ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রযুক্তিনির্ভরতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, একই ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে কি ইউরোপের ব্যাংকগুলোও?

৩ লাখ ২০ হাজার গ্রাহকের তথ্য ঝুঁকিতে

জাপানের এসএমবিসি কনজ্যুমার ফাইন্যান্স গত ৫ নভেম্বর জানায়, হ্যাকাররা তাদের ঋণের জামিনসংক্রান্ত ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। এতে ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৩ লাখ ২০ হাজার ১১৮ জন গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে থাকতে পারে।

ঝুঁকিতে থাকা তথ্যের মধ্যে রয়েছে- গ্রাহকদের নাম, বাসার ঠিকানা, ফোন নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিবরণ, কর্মসংস্থানের তথ্য ও বার্ষিক আয়। এসব তথ্য ব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতি কিংবা প্রতারণার আশঙ্কা রয়েছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ডোকোমো এসএমটিবি নেট ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩৫ জন গ্রাহক এ ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক ক্ষতির কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে ১২৮ ব্যাংকের সেবা বন্ধ

এর এক দিন পর, ৬ নভেম্বর জাপানের ১২৮টি শিনকিন ব্যাংকের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সেবা দেওয়া এসব ব্যাংকের যৌথ নেটওয়ার্ক কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিপর্যয় দেখা দেয়।

স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে শুরু হওয়া এ সমস্যায় অর্থ উত্তোলন, অর্থ স্থানান্তর ও শাখাভিত্তিক লেনদেন ব্যাহত হয়। সন্ধ্যা সাতটার কিছু পর সেবা স্বাভাবিক হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি সাইবার হামলা নয়। এ ঘটনার সঙ্গে আগের তথ্য চুরির ঘটনারও কোনও যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।

ইউরোপেও কি একই ঝুঁকি?

জাপানের এ ঘটনা স্পেন ও যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব দেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম ক্রমেই ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও তৃতীয় পক্ষের প্রযুক্তি সেবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। ফলে কোনও একটি যৌথ প্রযুক্তি ব্যবস্থায় বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে একসঙ্গে একাধিক ব্যাংকের সেবা ব্যাহত হতে পারে।

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও আর্থিক খাতের সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত স্থিতিশীলতা জোরদারে কাজ করছে। জাপানের ঘটনাগুলো দেখিয়েছে, ব্যাংকের অর্থ ও গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষার পাশাপাশি দৈনন্দিন লেনদেন সচল রাখার প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে জাপানের এ বিপর্যয়ের সঙ্গে ইউরোপের কোনও ঘটনার সরাসরি যোগসূত্রের প্রমাণ নেই।