
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হাম টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিশন গঠন করেছে সরকার। এসব ঘটনায় কারা দায়ী, তা চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সুপারিশ দেবে কমিশন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস নয়, যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বুধবার রাতের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সাবেক হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামুন রহমানকে কমিশনের সভাপতি করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এএনএম মঈনুল ইসলাম।
কমিশন ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করবে। প্রজ্ঞাপন জারির পর ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে সরকারকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
তদন্তের প্রয়োজনে দেশের যেকোনো স্থানে পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তিকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কমিশনকে।
কমিশনের কার্যপরিধিতে তিনটি বিষয় রাখা হয়েছে। প্রথমত, হাম টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করা। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়া। তৃতীয়ত, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অন্য যেকোনো সুপারিশ করা।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কমিশনকে প্রয়োজনীয় জনবল, অর্থ ও দাপ্তরিক সহায়তা দেবে।
সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আবদুল আওয়াল মজুমদার বলেন, এত শিশুর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী থাকলে তা খুঁজে বের করা জরুরি। এ ধরনের কমিশন গঠন প্রয়োজনীয় ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগের অনেক তদন্ত প্রতিবেদনের মতো এবারও প্রতিবেদনটি যেন প্রকাশ না করার পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনও স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে হাম প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে সরকারিভাবে তদন্তের ঘোষণা এটাই প্রথম। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সরকারি কর্মকর্তারা তদন্তের কথা বললেও আনুষ্ঠানিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৯ জনে।
একই সময়ে নতুন করে ৭৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১৫০ জনে। নিশ্চিত হাম আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ১০৫ জনে অপরিবর্তিত রয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে ২ লাখ ৮ হাজার ৬৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৯৪ জন।