
চীনের মহাকাশ স্টেশনে প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি নভোচারী পাঠানোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অভিযানে অংশ নিতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের একজন নভোচারী। চলতি বছরের শেনঝৌ-২৪ (Shenzhou-24) মিশনে পেলোড বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে চীনের মানববাহী মহাকাশ কর্মসূচিতে প্রথমবারের মতো বিদেশি নভোচারীর অংশগ্রহণ ঘটতে যাচ্ছে।
৭ নভেম্বর শনিবার চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি চায়না ম্যানড স্পেস এজেন্সির (সিএমএসএ) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায়। তবে নির্বাচিত নভোচারীর নাম ও অভিযানের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো প্রকাশ করেনি বেইজিং। খবর রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও আলজাজিরার।
পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সুপারকোর (SUPARCO) দুই পাইলট মুহাম্মদ জিশান আলী ও খুররম দাউদ এ অভিযানের জন্য চীনে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বেইজিংয়ের চায়না অ্যাস্ট্রোনট রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে কয়েক মাস ধরে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দুজনের মধ্য থেকে একজনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তবে তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে দুই পাইলটকে চীনা ভাষা শেখানো, মহাকাশযানের পরিচালনব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং মাধ্যাকর্ষণহীন পরিবেশে কাজ করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহাকাশযাত্রার সময় উচ্চমাত্রার মাধ্যাকর্ষণজনিত চাপ সহ্য করার সক্ষমতাও যাচাই করা হয়েছে।
রয়টার্সের সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ অভিযানে পাকিস্তানের চারটি জীবপ্রযুক্তিবিষয়ক পরীক্ষা পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত গবেষণাকে গুরুত্ব দিয়ে এসব পরীক্ষা তৈরি করা হয়েছে। পাকিস্তানের গবেষণাগারে প্রস্তুত করা পরীক্ষাগুলো চীনা প্রকৌশলীদের অনুমোদন পেয়েছে।
চীনের মহাকাশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি নভোচারী স্বল্প সময়ের জন্য মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান করবেন। পরে শেনঝৌ-২৩ মহাকাশযানে করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। মহাকাশযানটি গত মে মাসে তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে যুক্ত হয়েছিল।
পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এর আগে এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন, নভোচারী পাঠানোর সম্ভাব্য তারিখ ২৫ নভেম্বর। তবে চীনের মহাকাশ কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উৎক্ষেপণের দিন ঘোষণা করেনি।
পাকিস্তান ও চীন ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নভোচারী প্রশিক্ষণ ও মহাকাশ গবেষণায় সহযোগিতার বিষয়ে চুক্তি করে। ওই চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের দুই প্রার্থীকে চীনে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে একজনকে চীনের মহাকাশ স্টেশনে পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় দুই দেশের মহাকাশ সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। পাকিস্তানের কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, নেভিগেশন প্রযুক্তি এবং চীনের চন্দ্রাভিযানে পাকিস্তানি প্রযুক্তির অংশগ্রহণও এ সহযোগিতার অংশ।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্যে নিজেদের মহাকাশ কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে চীন। ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে দেশটির। চীনের তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে পাকিস্তানি নভোচারীর অংশগ্রহণ সেই কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও আলজাজিরা