
রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় এক রাতেই একাধিক নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। যাত্রাবাড়ী ও সাভারে ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি মহাখালী ও মিরপুরে দুটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে দিবাগত রাত পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় দফায় দফায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। রাত সোয়া ২টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। একটি ভিডিওতে হেলমেট পরা এক ব্যক্তিকে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাতে দেখা গেছে।
এর আগে সন্ধ্যায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডে উপজেলা পরিষদের ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী আনসার সদস্য বিশ্বজিৎ জানান, সন্ধ্যায় সড়কে বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি জানতে পারেন। তবে কে বা কারা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা কেউ শনাক্ত করতে পারেননি।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত তখনো জানা যায়নি।
এদিকে, রাত ১২টা ৫৭ মিনিটের দিকে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে পার্কিং করে রাখা সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে আগুন লাগে। খবর পেয়ে তেজগাঁও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা শাহজাহান হোসাইন জানান, বাসটিতে কীভাবে আগুন লেগেছে, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।
এর আগে রাত ১০টার দিকে মিরপুরে বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা দাঁড়িয়ে থাকা বাসটির জানালা দিয়ে পেছনের অংশে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে বাসের কর্মীদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে বাসটির পেছনের দিকের কয়েকটি আসন পুড়ে যায়।
একই রাতে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় এসব বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।