
ছবি: সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতৌ আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের কারণে দেশটির বিমান চলাচল ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং ২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন. গত ৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাত থেকে শুরু হওয়া এই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা ও বিষাক্ত আগ্নেয় ছাই আকাশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার (৫০ হাজার ফুট) উচ্চতা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে রাজধানী জাকার্তার প্রধান সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্তত ৭ থেকে ৮টি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে দেশটির প্রশাসন।
অগ্ন্যুৎপাতের জেরে এখন পর্যন্ত ২,০০০ থেকে ২,৩০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল ও ডাইভার্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দর থেকেই ৯০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়। প্রথম দিকে ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, সর্বশেষ সোমবারের তথ্য অনুযায়ী আটকা পড়া যাত্রীর সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে. প্রধানত সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, দোহা এবং সিডনিগামী আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের চারপাশে ৩ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ও নৌযান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জাকার্তা ও আশপাশের আকাশ ছাইয়ে ঢেকে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে স্কুলগুলোতে অনলাইন বা দূরশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে. তবে আশার কথা হলো, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এই অগ্ন্যুৎপাতের কারণে নতুন কোনো সুনামি সতর্কতা নেই।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, আবহাওয়া এবং আগ্নেয়গিরির পরিস্থিতি ক্রমাগত পরিবর্তনশীল হওয়ায় বিমানবন্দরগুলো আবার কবে নাগাদ পুরোপুরি সচল হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।