News update
  • গুলশানে গাড়ি চাপায় পথচারীর মৃত্যু, ৯ লাখ টাকায় আসামিদের সঙ্গে আপোস     |     
  • টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব নি‌শ্চি‌তে জোর বাংলা‌দে‌শের     |     
  • জাতিসংঘে আজ প্রথমবার ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান     |     
  • অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড     |     
  • যুক্তরাষ্ট্রকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরানের     |     
মোহাম্মদ মামুন কবীর ধর্ম ও জীবন 2026-09-07, 12:51pm

মহাবিশ্ব ও আল-কোরআন

69389-181615962bac050f4454517b82e942b11788763886.png


মানুষ যখন রাতের আকাশের দিকে তাকায়, তখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে অসংখ্য নক্ষত্র। খালি চোখে দেখা সেই নক্ষত্রগুলোর অনেকগুলো আসলে সূর্যের মতোই বিশাল নক্ষত্র, যার দূরত্ব পৃথিবী থেকে কল্পনাতীত। আমাদের সৌরজগতের বাইরে রয়েছে অগণিত নক্ষত্রের সমন্বয়ে গঠিত গ্যালাক্সি; আর পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বে রয়েছে বিপুলসংখ্যক গ্যালাক্সি। মহাবিশ্বের প্রকৃত পরিসর কত বড়, তার সম্পূর্ণ উত্তর এখনো মানুষের জানা নেই।


অন্যদিকে, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে নাজিল হওয়া আল-কোরআন মানুষকে বারবার আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করতে বলেছে। সূর্য, চন্দ্র, রাত-দিনের পরিবর্তন, নক্ষত্র, আকাশমণ্ডলী এবং সৃষ্টিজগতের শৃঙ্খলা—কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে এসব বিষয় এসেছে।


তবে কোরআন কোনো জ্যোতির্বিজ্ঞানের পাঠ্যবই নয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য মানুষের জন্য হেদায়াত বা সঠিক পথের নির্দেশনা। তাই কোরআনের আয়াতকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক সূত্র হিসেবে উপস্থাপনের বদলে, আয়াতগুলোর প্রকৃত অর্থ, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আধুনিক বিজ্ঞানের তথ্যের মধ্যে সম্ভাব্য সামঞ্জস্যকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা বেশি যুক্তিসংগত।


আকাশ ও পৃথিবী—সৃষ্টির শুরু নিয়ে কোরআনের বক্তব্য


সূরা আল-আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী একসঙ্গে সংযুক্ত ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম...’


এই আয়াতটি মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত আয়াতগুলোর একটি। আধুনিক মহাকাশবিজ্ঞানে প্রচলিত বিগ ব্যাং মডেল অনুযায়ী, মহাবিশ্ব অতীতে অত্যন্ত উত্তপ্ত ও ঘন অবস্থায় ছিল এবং পরে তা সম্প্রসারিত হয়েছে।


এখানে অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কোরআনের আয়াতের ভাষা ও তাফসিরের ব্যাখ্যাকে সরাসরি বিগ ব্যাং তত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিবরণ বলা যায় না। প্রাচীন ও আধুনিক তাফসিরে আয়াতটির ব্যাখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। কেউ আকাশ ও পৃথিবীর প্রাথমিক সংযুক্ত অবস্থার কথা বলেছেন, কেউ আবার সৃষ্টির এমন এক অবস্থার কথা বলেছেন যেখানে বৃষ্টি ও উদ্ভিদের মতো বিষয়গুলোর প্রসঙ্গও ব্যাখ্যায় এসেছে।


অতএব, আয়াতটিকে বিগ ব্যাংয়ের সরাসরি বৈজ্ঞানিক ঘোষণা না বলে, মহাবিশ্বের সূচনালগ্ন নিয়ে চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ কোরআনিক বক্তব্য হিসেবে দেখা অধিক সতর্ক অবস্থান।


‘সম্প্রসারণশীল আকাশ’—বিজ্ঞান ও আয়াতের আলোচনায়


মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। বিশ শতকের প্রথম ভাগে পর্যবেক্ষণ থেকে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, দূরবর্তী গ্যালাক্সিগুলো বৃহৎ পরিসরে একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এর অর্থ হলো মহাবিশ্ব স্থির নয়; বৃহৎ পরিসরে এটি সম্প্রসারিত হচ্ছে।


সূরা আয-যারিয়াতের ৪৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর আকাশ—আমি তা শক্তি দ্বারা নির্মাণ করেছি এবং নিশ্চয়ই আমি সম্প্রসারণকারী।’


এই আয়াতের ‘মূসিউন’ শব্দের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা নিয়ে ভাষাবিদ ও মুফাসসিরদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। আধুনিক সময়ে অনেক মুসলিম গবেষক এটিকে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে দেখেছেন। তবে ঐতিহাসিক তাফসিরের ব্যাখ্যা সব সময় আধুনিক ‘expanding universe’ ধারণার সঙ্গে অভিন্ন নয়।


তাই এখানে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সাংবাদিকতাসুলভ ভাষা হলো—কোরআনের আয়াতটির একটি আধুনিক ব্যাখ্যা মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়; কিন্তু এটিকে আধুনিক কসমোলজির সরাসরি বৈজ্ঞানিক সূত্র হিসেবে দাবি করা উচিত নয়।


রাত-দিনের পরিবর্তন ও পৃথিবীর গতি


কোরআনে রাত ও দিনের পরিবর্তনকে সৃষ্টির নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা আলে ইমরানের ১৯০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে—


‘নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’


আরও কয়েকটি আয়াতে রাত ও দিনকে পরস্পরের ওপর আবৃত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সূরা আয-যুমারের ৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ রাতকে দিনের ওপর এবং দিনকে রাতের ওপর জড়িয়ে দেন।


আধুনিক বিজ্ঞান জানায়, পৃথিবীর নিজ অক্ষে ঘূর্ণনের ফলে দিন ও রাতের সৃষ্টি হয়। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে পরিভ্রমণ করে এবং নিজ অক্ষে প্রায় ২৪ ঘণ্টায় একবার ঘোরে।


কোরআনের আয়াতগুলো পৃথিবীর ঘূর্ণনের সরাসরি বৈজ্ঞানিক বিবরণ দেয়—এমন দাবি করা ঠিক হবে না। কিন্তু দিন-রাতের ধারাবাহিক পরিবর্তনকে ‘নিদর্শন’ হিসেবে উপস্থাপন করে মানুষকে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ ও চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে—এটি আয়াতগুলোর সুস্পষ্ট শিক্ষা।


সূর্য ও চন্দ্র: এক নয়, পৃথক বৈশিষ্ট্য


সূরা ইউনুসের ৫ নম্বর আয়াতে সূর্যকে ‘দিয়া’ এবং চন্দ্রকে ‘নূর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণভাবে ‘দিয়া’ শব্দের মধ্যে উজ্জ্বলতা বা দীপ্তি এবং ‘নূর’ শব্দের মধ্যে আলো বা আলোকিত হওয়ার ধারণা রয়েছে।


আধুনিক বিজ্ঞান জানায়, সূর্য একটি নক্ষত্র এবং তার কেন্দ্রে নিউক্লীয় সংযোজনের মাধ্যমে বিপুল শক্তি উৎপন্ন হয়। সূর্য নিজেই আলো ও তাপের উৎস। অন্যদিকে, চাঁদ নিজে সূর্যের মতো আলো উৎপন্ন করে না; এটি সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে।


কোরআনের সূর্য ও চন্দ্রের জন্য পৃথক শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে ইসলামি লেখালেখিতে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। তবে শুধু শব্দের পার্থক্য থেকেই আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তও অতিরঞ্জিত হবে।


সূর্য ও চন্দ্রের নিজস্ব গতিপথ


সূরা ইয়াসিনের ৩৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে—


‘আর সূর্য তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে চলতে থাকে।’


এর পরের আয়াতগুলোতে চাঁদের পর্যায় এবং সূর্য-চন্দ্রের নিজ নিজ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।


আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুযায়ী, সূর্য নিজেও স্থির কোনো বিন্দুতে দাঁড়িয়ে নেই। এটি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করছে। একই সঙ্গে সৌরজগতের অন্যান্য বস্তু সূর্যকে কেন্দ্র করে কক্ষপথে চলছে।


কোরআনের আয়াতের মূল উদ্দেশ্য অবশ্য সূর্যের গ্যালাক্টিক কক্ষপথের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া নয়। বরং সূর্য ও চন্দ্রের নিয়মতান্ত্রিক চলাচলকে সৃষ্টির নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।


নক্ষত্র: সৌন্দর্য থেকে পথনির্দেশ


কোরআনে নক্ষত্রের কথাও এসেছে বিভিন্ন স্থানে। সূরা আন-নাহলের ১৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর নিদর্শনসমূহ এবং নক্ষত্রের মাধ্যমে তারা পথনির্দেশ লাভ করে।’


মানবসভ্যতার ইতিহাসে নক্ষত্রের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক নেভিগেশন প্রযুক্তির আগে নাবিক ও মরুভূমির পথিকেরা নক্ষত্র দেখে দিক নির্ণয় করতেন। নক্ষত্রের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে সময় ও দিক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেত।


কোরআন এই বাস্তবতাকে মানুষের সামনে একটি নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরে। একই সঙ্গে রাতের আকাশের সৌন্দর্য ও মহাবিশ্বের বিশালতা মানুষের চিন্তাকে সৃষ্টির দিকে নিয়ে যায়।


‘সাত আকাশ’—কী বোঝায়?


কোরআনে ‘সাত আকাশ’ বা ‘সাত আসমান’-এর উল্লেখ বহুবার এসেছে। সূরা আল-বাকারা, সূরা আল-মুলক, সূরা নূহসহ বিভিন্ন সূরায় এ প্রসঙ্গ রয়েছে।


এখানে আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে সরাসরি সমীকরণ তৈরি করার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ‘সাত আকাশ’কে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সাতটি স্তর, সাতটি গ্যালাক্সি বা আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের নির্দিষ্ট কোনো কাঠামো হিসেবে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করার মতো সর্বসম্মত বৈজ্ঞানিক বা তাফসিরভিত্তিক ভিত্তি নেই।


ইসলামি ঐতিহ্যে ‘সাত আসমান’ একটি স্বতন্ত্র ধর্মীয় ধারণা। এর প্রকৃত বাস্তবতা ও বিস্তারিত প্রকৃতি গায়েবের বিষয় হিসেবে বিবেচিত।


মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে কোরআন


মহাবিশ্বে পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি না—এ প্রশ্ন বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো উন্মুক্ত। অন্য গ্রহ ও উপগ্রহে জীবনের সম্ভাব্য পরিবেশ খুঁজতে বিশ্বের বিভিন্ন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।


কোরআনের সূরা আশ-শুরার ২৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে—


‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং এ দুয়ের মধ্যে তিনি যে জীবজন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন।’


আয়াতটির ব্যাখ্যা নিয়ে মুসলিম আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। কেউ এটিকে পৃথিবীর জীবজগতের প্রসঙ্গ হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ আকাশ ও পৃথিবী উভয় স্থানে সৃষ্ট জীবের সম্ভাবনার কথা বলেছেন।


তবে এই আয়াত থেকে পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত—এমন দাবি করা বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। এ বিষয়ে বিজ্ঞান এখনো অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।


মহাবিশ্বের শৃঙ্খলা ও কোরআনের আহ্বান


কোরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি মানুষকে শুধু বিশ্বাস করতে বলে না; বরং বহুবার চিন্তা, পর্যবেক্ষণ ও উপলব্ধির আহ্বান জানায়।


আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি, রাত-দিনের পরিবর্তন, বৃষ্টি, উদ্ভিদ, প্রাণী, মানুষের সৃষ্টি—এসবকে কোরআন ‘নিদর্শন’ হিসেবে উপস্থাপন করে।


সূরা আল-গাশিয়াহর ১৭ থেকে ২০ নম্বর আয়াতে উট, আকাশ, পাহাড় ও পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে চিন্তা করতে বলা হয়েছে।


অর্থাৎ প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ ইসলামি চিন্তায় নিষিদ্ধ নয়; বরং সৃষ্টির রহস্য অনুধাবনের একটি পথ হিসেবে প্রকৃতিকে দেখার আহ্বান রয়েছে।


কোরআন ও বিজ্ঞান: মিল খোঁজার ক্ষেত্রে সতর্কতা কেন জরুরি?


বর্তমান সময়ে ‘কোরআনে সব আধুনিক বিজ্ঞান আগে থেকেই আছে’—এ ধরনের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এর মধ্যে কিছু দাবির পেছনে আয়াতের ভাষা ও আধুনিক বিজ্ঞানের মধ্যে আকর্ষণীয় সাদৃশ্য রয়েছে। আবার কিছু দাবি অতিরঞ্জিত বা ভুল অনুবাদ ও নির্বাচিত ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল।


বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল—নতুন পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণের ভিত্তিতে বৈজ্ঞানিক মডেল সংশোধিত হতে পারে। কোরআন মুসলমানদের কাছে আল্লাহর বাণী এবং ধর্মীয় সত্যের উৎস। তাই কোনো অস্থায়ী বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের সঙ্গে কোরআনের আয়াতকে এমনভাবে বেঁধে দেওয়া উচিত নয়, যাতে ভবিষ্যতে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পরিবর্তিত হলে ধর্মীয় বক্তব্যকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।


বরং বলা যায়, কোরআন মানুষকে সৃষ্টিজগত নিয়ে পর্যবেক্ষণ, চিন্তা ও জ্ঞান অনুসন্ধানে উৎসাহিত করে। আধুনিক বিজ্ঞান সেই অনুসন্ধানের প্রক্রিয়াকে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা ও প্রমাণের মাধ্যমে এগিয়ে নেয়।


শেষ কথা


মহাবিশ্ব আজও মানুষের কাছে এক বিশাল রহস্য। বিজ্ঞান টেলিস্কোপ, মহাকাশযান, কৃত্রিম উপগ্রহ ও শক্তিশালী কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে মহাবিশ্বের অতীত ও বর্তমান সম্পর্কে প্রতিদিন নতুন তথ্য সংগ্রহ করছে। তবু মহাবিশ্বের সম্পূর্ণ রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি।


আল-কোরআন দেড় হাজার বছর আগে মানুষকে আকাশ ও পৃথিবীর দিকে তাকাতে, রাত-দিনের পরিবর্তন লক্ষ্য করতে, সূর্য-চন্দ্র ও নক্ষত্র নিয়ে চিন্তা করতে এবং সৃষ্টির নিদর্শন উপলব্ধি করতে আহ্বান জানিয়েছে।


কোরআনের উদ্দেশ্য বিজ্ঞান শেখানো নয়; কিন্তু প্রকৃতি ও মহাবিশ্ব নিয়ে চিন্তার যে দরজা এটি খুলে দেয়, তা মানুষের জ্ঞানচর্চার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।


মহাবিশ্বের বিশালতা মানুষকে যেমন তার ক্ষুদ্রতা উপলব্ধি করায়, তেমনি জ্ঞান অনুসন্ধানের সীমাহীন সম্ভাবনার কথাও মনে করিয়ে দেয়। আকাশের দিকে তাকিয়ে বিজ্ঞানী খুঁজছেন মহাবিশ্ব কীভাবে সৃষ্টি ও বিকশিত হয়েছে; আর কোরআন মানুষকে সেই সৃষ্টির নিদর্শন নিয়ে ভাবতে আহ্বান জানাচ্ছে।


মহাবিশ্ব তাই শুধু গবেষণাগারের বিষয় নয়—এটি মানুষের চিন্তা, বিস্ময় ও আত্মঅনুসন্ধানেরও এক বিশাল ক্ষেত্র।