News update
  • স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগামী বছরের প্রথম দিকে শুরু: মীর শাহে আলম     |     
  • বিশ্ববাজারে আরও কমলো জ্বালানি তেলের দাম     |     
  • পাসপোর্ট হারালে দ্বিতীয়বার থেকে জরিমানা ১০ হাজার টাকা     |     
  • হঠাৎ চলন্ত মেট্রোরেলের খুলে গেল দরজা     |     
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ও জীবন 2026-09-21, 12:25pm

সন্তানের পাপের জন্য কি মা-বাবার কবরে শাস্তি হবে?

pap-islam-ebe3171b76e66cf4107a294ac085f4141789971944.jpg

ছবি: সংগৃহীত


সন্তানের পাপের কারণে মা-বাবাকে কবরে শাস্তি ভোগ করতে হবে কি না এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে, মা-বাবা সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল। সন্তানকে সঠিক শিক্ষা দেওয়া, ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝানো এবং পাপ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা তাদের কর্তব্য। তবে দায়িত্ব পালনের পরও সন্তান নিজ ইচ্ছায় পাপ করলে সেই পাপের দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মা-বাবার ওপর বর্তায় না।

ইসলাম সন্তানকে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত হিসেবে উল্লেখ করেছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, জেনে রেখ, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা। আর মহা পুরস্কার রয়েছে আল্লাহরই কাছে। (সুরা আনফাল, আয়াত: ২৮)

সন্তানের ঈমান, আকিদা, চিন্তা-চেতনা ও চরিত্র গঠনে মা-বাবার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক সন্তানই ইসলামের ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে। এরপর তার মা-বাবা তাকে ইহুদি, খ্রিষ্টান অথবা অগ্নিপূজক বানায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩৫৮)

এ কারণে সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালিত করা মা-বাবার অন্যতম দায়িত্ব। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, হে ইমানদাররা, তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। (সুরা তাহরিম, আয়াত: ৬)

সন্তানকে ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রেও মা-বাবার দায়িত্ব রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ ভালো কাজের দিকে মানুষকে আহ্বান করলে আমলকারীর সমপরিমাণ সওয়াব সে পাবে। আবার কেউ কোনো মন্দ কাজের প্রচলন করলে এবং মানুষ তা অনুসরণ করলে তার ওপর নিজের গুনাহের পাশাপাশি অনুসরণকারীদের সমপরিমাণ গুনাহ বর্তাবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২০৩)

তবে মা-বাবা যদি সন্তানের সঠিক ইসলামি শিক্ষা দেন, তাকে পাপ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেন এবং ভুল পথ থেকে ফেরার জন্য উপদেশ দেন এরপরও সন্তান নিজের ইচ্ছায় গুনাহে জড়িয়ে পড়লে সেই গুনাহের দায় মা-বাবার ওপর বর্তাবে না। কারণ প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের কর্মের জন্য দায়ী।

এ বিষয়ে ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, মা-বাবা মারা যাওয়ার পর সন্তান খারাপ কাজ করলে এর দায়ভার সন্তানের ওপরই বর্তাবে, মা-বাবার ওপর নয়। সন্তানের খারাপ কাজের কারণে মা-বাবাকে দোষারোপ বা গালমন্দ করাও উচিত নয়।

তবে মা-বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় সন্তানের অনৈতিক বা পাপাচরণ সম্পর্কে জানার পরও তাকে সংশোধনের চেষ্টা না করলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে। মা-বাবা জেনেও যদি সন্তানকে ভুল পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা না করেন, অসিয়ত না করেন, তাহলে এর দায়ভার মা-বাবার ওপর কিছু না কিছু বর্তাতে পারে।

অর্থাৎ, সন্তানের পাপের দায় নির্ধারণে মা-বাবার দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করার পরও সন্তান যদি গুনাহে লিপ্ত হয়, তাহলে সেই গুনাহের জন্য মা-বাবাকে কবরে শাস্তি ভোগ করতে হবে এমন কথা বলা যায় না। বরং সন্তান নেক আমল করলে তার আমল থেকে মা-বাবার জন্যও সওয়াবের অংশ পৌঁছাতে পারে।