News update
  • স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগামী বছরের প্রথম দিকে শুরু: মীর শাহে আলম     |     
  • বিশ্ববাজারে আরও কমলো জ্বালানি তেলের দাম     |     
  • পাসপোর্ট হারালে দ্বিতীয়বার থেকে জরিমানা ১০ হাজার টাকা     |     
  • হঠাৎ চলন্ত মেট্রোরেলের খুলে গেল দরজা     |     
মোহাম্মদ মামুন কবীর ধর্ম ও জীবন 2026-09-22, 6:30am

ইসলামে দুজনের একসঙ্গে চলার রয়েছে যেসব আদব

islam-2ee6986e22831d3d91b0971635ac4f7c1790037055.jpg

ইসলামে পথ চলার ক্ষেত্রেও রয়েছে পারস্পরিক সম্মান, বিনয় ও সৌজন্যের নানা শিক্ষা।


ইসলাম মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শিষ্টাচার ও সৌন্দর্যের শিক্ষা দিয়েছে। খাবার গ্রহণ, কথা বলা, ঘুমানো থেকে শুরু করে চলাফেরার ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট আদব। দুজন মানুষ একসঙ্গে পথ চলার সময়ও ইসলামী কিছু শিষ্টাচার মেনে চলার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এসব আদবের মূল উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক সম্মান, ভ্রাতৃত্ব, বিনয় ও অন্যের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করা।

ইসলামী শিক্ষায় একসঙ্গে চলার ক্ষেত্রে প্রথমেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উত্তম আচরণ ও বিনয়ের ওপর। কোনো ব্যক্তি অর্থ, শিক্ষা, বয়স কিংবা সামাজিক মর্যাদায় অন্যের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও তার সঙ্গে অহংকারপূর্ণ আচরণ করা উচিত নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তুমি পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ করো না।’ (সুরা আল-ইসরা: ৩৭)

দুজন একসঙ্গে চলার সময় পরস্পরের প্রতি সম্মান দেখানোও গুরুত্বপূর্ণ। বয়সে বড় ব্যক্তি সঙ্গে থাকলে তাকে সম্মান করা এবং অসুস্থ, দুর্বল বা বয়স্ক কেউ থাকলে তার সুবিধা অনুযায়ী চলা উত্তম আচরণের অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে সঙ্গীর ওপর নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে না দিয়ে তার অসুবিধার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত।

পথ চলার সময় অন্য মানুষের অধিকার রক্ষার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাস্তা আটকে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা, অপ্রয়োজনে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা কিংবা উচ্চস্বরে কথা বলে অন্যকে বিরক্ত করা ইসলামী শিষ্টাচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং এমনভাবে চলাফেরা করা উচিত, যাতে অন্য পথচারীর কোনো অসুবিধা না হয়।

একসঙ্গে চলার সময় কথাবার্তার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। গিবত, অপবাদ, মিথ্যা, অশ্লীলতা কিংবা অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা থেকে বিরত থাকা উচিত। বরং প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর কথা বলা এবং অপ্রয়োজনীয় আলোচনা এড়িয়ে চলাই উত্তম।

কেউ সঙ্গে থাকা অবস্থায় তাকে বাদ দিয়ে দুজনের মধ্যে গোপনে ফিসফিস করে কথা বলাও অনুচিত। এতে তৃতীয় ব্যক্তি কষ্ট পেতে পারেন বা নিজেকে অবহেলিত মনে করতে পারেন। তাই এমন পরিবেশ তৈরি করা উচিত, যেখানে প্রত্যেকেই সম্মান ও স্বস্তি অনুভব করেন।

নারী-পুরুষ সবার জন্যই চলাফেরার সময় দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ রয়েছে। কোরআনে মুমিনদের দৃষ্টি সংযত রাখা ও লজ্জাস্থান হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই পথ চলার সময় অশোভন দৃষ্টি ও আচরণ থেকে বিরত থাকা ইসলামী শিষ্টাচারের অংশ।

পথে কোনো সঙ্গী অসুবিধায় পড়লে তাকে সহযোগিতা করাও গুরুত্বপূর্ণ। বহন করতে কষ্ট হলে জিনিস বহনে সহায়তা করা, পথ চিনতে সাহায্য করা কিংবা প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো একজন মুসলিমের উত্তম চরিত্রের পরিচয়।

এ ছাড়া রাস্তার হক আদায় করাও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। চলার পথে ক্ষতিকর বস্তু সরিয়ে দেওয়া, মানুষের চলাচলে বাধা না দেওয়া এবং পথচারীদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা সওয়াবের কাজ।

সব মিলিয়ে, ইসলামে দুজনের একসঙ্গে পথ চলা শুধু পাশাপাশি হাঁটার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিনয়, সৌজন্য, পরস্পরের প্রতি সম্মান, দৃষ্টি ও জিহ্বার হেফাজত এবং মানুষের অধিকার রক্ষা। একজন মুসলিমের প্রতিটি চলাফেরায় যেন তার উত্তম চরিত্র ও ইসলামী আদবের প্রকাশ ঘটে, সেটিই এসব শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য।