News update
  • সমুদ্রপৃষ্ঠ ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে তলিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের ৪ শতাংশ ভূমি     |     
  • ট্রাম্পের জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনায় ওয়াশিংটনে শি জিনপিং     |     
  • ক্যান্টনমেন্ট থানার সেই ওসি গ্রেপ্তার     |     
  • আবারও ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি নজরুল      |     
  • পবিত্র মক্কায় জরুরি সতর্কতা জারি, সৌদিজুড়ে হামলার আতঙ্ক     |     
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক 2026-09-24, 11:10pm

ট্রাম্পের জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনায় ওয়াশিংটনে শি জিনপিং

shi-cefd573c75ef3e8eee5ae1ffe42434971790269832.jpg


চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে পৌঁছানোর পর তাকে নজিরবিহীন আনুষ্ঠানিকতায় স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে দুই দেশ বিদ্যমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।


বুধবার শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিইউয়ানকে বহনকারী বিমান ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে অবতরণ করে। সেখানে ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প নিজে উপস্থিত হয়ে তাদের স্বাগত জানান।চীনের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা কমাতে চলমান সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন শুল্ক কমানো এবং নতুন করে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।


বেসেন্ট বলেন, এই সময় বাড়ানোর ফলে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সামনে দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আরও আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে। নভেম্বর মাসে চীনে এবং ডিসেম্বর মাসে ফ্লোরিডায় দুই নেতার বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দুই দেশ শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর কোনো বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাবে, নাকি বর্তমান সমঝোতাই চালু রাখবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।


বাণিজ্য বিরোধের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইরান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি এবং তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের অবস্থানও ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের ক্ষেত্র। তবে শির তিন দিনের সফরে কূটনৈতিক সৌজন্য ও আনুষ্ঠানিকতার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা


শিকে স্বাগত জানাতে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ লাল গালিচা বিছানো হয়। গালিচার দুই পাশে ২১ সদস্যের সামরিক সম্মান প্রদর্শনকারী দল অবস্থান নেয়।


বিমান থেকে নামার পর শি ও পেং লিইউয়ানকে করমর্দনের মাধ্যমে স্বাগত জানান ট্রাম্প ও মেলানিয়া। অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে দুটি বি-১ বোমারু বিমানের উড্ডয়ন প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যদের নিয়ে সামরিক কুচকাওয়াজ, দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা হয়।


ট্রাম্প ও শি কিছুক্ষণ কথা বলেন। তবে তাদের কথোপকথন সাংবাদিকদের শোনা যায়নি। একপর্যায়ে ট্রাম্পকে শির পিঠে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হাত রাখতেও দেখা যায়।


পরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, চীনা প্রতিনিধিদল এই অভ্যর্থনায় সন্তুষ্ট হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর দেওয়া এক বিবৃতিতে শি বলেন, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের উচিত একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হিসেবে দেখা। চীনের জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্য এবং ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ নীতি পাশাপাশি চলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এতে দুই দেশ এবং বৃহত্তর বিশ্বের জন্য সাফল্যের সুযোগ তৈরি হতে পারে।


অভ্যর্থনা নিয়ে প্রশ্ন


ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই শির সঙ্গে তার সম্পর্ককে উষ্ণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলে আসছেন তিনি।


তবে শিকে এত জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা দেওয়ার সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান দলের কয়েকজন নেতা। সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এতগুলো বিরোধ থাকা অবস্থায় শিকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি ট্রাম্পের পুনর্বিবেচনা করা উচিত ছিল।অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বিশ্বের দুটি বৃহত্তম অর্থনীতি এবং সামরিক শক্তির দিক থেকেও সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।


সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা ড্যানি রাসেল বলেন, এ ধরনের আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা চীনের জন্য কূটনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে। এর মাধ্যমে শিকে একজন অত্যন্ত সম্মানিত বিশ্বনেতা হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পেতে পারে বেইজিং।


দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি চেয়েছিল চীন


এর আগে চীন বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য বাড়ানোর আগ্রহ দেখিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়। আগের সমঝোতা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল।


সাবেক মার্কিন বাণিজ্য আলোচক ওয়েন্ডি কাটলার বলেন, মাত্র কয়েক মাসের জন্য মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায়, চীনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে ওয়াশিংটনের এখনো উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের ক্রেইগ সিঙ্গেলটন বলেন, সীমিত সময়ের এই বর্ধিত মেয়াদ বেইজিং তার বাকি প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়ন করছে, তা যাচাইয়ের সুযোগ দেবে যুক্তরাষ্ট্রকে। এরপরই পরবর্তী মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।


বৃহস্পতিবার মূল আলোচনা


বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা ও সামরিক কুচকাওয়াজের পর ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।


এ ছাড়া দুই নেতা একটি আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে অংশ নেবেন। এতে ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও উপস্থিত থাকবেন। অতিথিদের মধ্যে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এবং স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক থাকার কথা রয়েছে।


ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি সফরে তিনি শিকে এমন একটি অভ্যর্থনা দিতে চান, যা চলতি বছরের শুরুর দিকে চীন সফরে নিজে যে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন পেয়েছিলেন, তার সঙ্গে তুলনীয়।


তবে ট্রাম্প যখন বেইজিং পৌঁছেছিলেন, তখন শি নিজে তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাননি। চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান। এরপরও ট্রাম্পকে লাল গালিচা, সামরিক সম্মান, ব্যান্ড দলের পরিবেশনা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকা হাতে শত শত তরুণের উপস্থিতিতে স্বাগত জানানো হয়েছিল।


মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, শির সঙ্গে স্বামীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই ট্রাম্প নিজে বিমানবন্দরে গিয়ে তাকে স্বাগত জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শি ও তার স্ত্রীকে ‘সর্বোচ্চ সম্মানের’ সঙ্গে অভ্যর্থনা জানানো উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে শিকে স্বাগত জানাতে বিছানো দীর্ঘ লাল গালিচার আয়োজনটি গত গ্রীষ্মে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার একটি সামরিক ঘাঁটিতে দেওয়া জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনার কথা মনে করিয়ে দেয়। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার জন্য পুতিন তখন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন।


শি জিনপিং ও পেং লিইউয়ান শুক্রবার আবার হোয়াইট হাউসে যাবেন। সেখানে ট্রাম্প ও মেলানিয়ার সঙ্গে তারা ব্যক্তিগত চা-আড্ডায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর তারা জাতীয় আর্কাইভস পরিদর্শন করবেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের ইতিহাস তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ নথি দেখার কথা রয়েছে।