
বাংলাদেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার ২০২৬ পেয়েছেন। এ পুরস্কারকে প্রায়ই ‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করে। এবারের তালিকায় রুনা খানের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের কূটনীতিক ও আইনজ্ঞ টমি কোহ এবং মিয়ানমারের মানবাধিকারকর্মী বো চি রয়েছেন।
র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের স্বীকৃতি মূলত এশিয়ায় মানুষের কল্যাণে অসাধারণ নেতৃত্ব, নিঃস্বার্থ সেবা ও পরিবর্তন সৃষ্টিকারী উদ্যোগকে সম্মান জানায়। ১৯৫৮ সালে প্রথমবার এই পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মানব উন্নয়ন ও সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এ সম্মাননা দেওয়া হয়ে আসছে।
রুনা খান ২০০২ সালে ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল, নদীতীরবর্তী এলাকা, উপকূলীয় অঞ্চল ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন ও জীবিকায়নের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে।
বিশেষ করে দুর্গম ও জলবায়ু-প্রভাবিত মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে ফ্রেন্ডশিপের উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশংসিত হয়েছে। সংগঠনটির কাজের মধ্যে ভাসমান হাসপাতালের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে।
এবারের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে ৬৮তম র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলার মেট্রোপলিটন থিয়েটারে বিজয়ীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
র্যামন ম্যাগসাইসাই ছিলেন ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট। তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত এই পুরস্কার সততা, সাহসী জনসেবা ও মানুষের জন্য কাজ করার আদর্শকে সামনে রেখে দেওয়া হয়। ৩১ আগস্ট তাঁর জন্মবার্ষিকীতেই ঐতিহ্যগতভাবে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
রুনা খানের এই অর্জন বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।