
ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতার একটি বিদ্যুতের টাওয়ারের চূড়ায় উঠে প্রায় সাত ঘণ্টা অবস্থান করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন ৩৩ বছর বয়সী এক যুবক। টাওয়ারের ওপর কখনো বসে, কখনো শুয়ে এবং হাত-পা নাড়াতে দেখা যায় তাকে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অক্ষত অবস্থায় তাকে নিচে নামিয়ে আনা হয়।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামের গাংগাটিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম মো. সাগর (৩৩)। তিনি নান্দাইল উপজেলার উত্তর তারাপাশা গ্রামের মৃত জনাব আলীর ছেলে।স্থানীয়রা জানান, সকালে কৃষকরা মাঠে কাজ করার সময় হঠাৎ দেখতে পান, সাগর একটি নবনির্মিত বিদ্যুতের টাওয়ার বেয়ে অনেক ওপরে উঠে গেছেন।
একপর্যায়ে তিনি টাওয়ারের তারের ওপর শুয়ে-বসে থাকতে শুরু করেন। প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতায় তার এমন আচরণ দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। যেকোনো সময় তিনি নিচে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন এমন আশঙ্কায় দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এরপর যুবককে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনার জন্য শুরু হয় দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করেন। এ সময় স্থানীয়রাও উদ্ধারকারীদের সহযোগিতা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক মো. হারুন মিয়া ও জুয়েল মিয়া বলেন, তারা জমিতে কাজ করার সময় সাগরকে টাওয়ারের ওপর উঠতে দেখেন। পরে তাকে বিদ্যুতের তারের ওপর শুয়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় তারা দ্রুত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালানোর পর উদ্ধারকারীরা তাকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন।
ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সবুজ মিয়া জানান, ওই বিদ্যুৎ লাইনে নতুন তার টানা হলেও এখনো সংযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা না থাকলেও প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতা থেকে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। এ কারণে স্থানীয়রা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন কৌশলে যুবককে নিচে নামানোর চেষ্টা করা হয়। প্রায় সাত ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিকভাবে সাগরকে মানসিকভাবে অসুস্থ বা ভারসাম্যহীন বলে মনে হয়েছে। বর্তমানে তিনি ভালুকা থানা হেফাজতে রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা থানায় এলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই উদ্ধার অভিযান দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন আশপাশের এলাকার উৎসুক মানুষ। পরে যুবককে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হলে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।