News update
  • রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় এক রাতেই একাধিক নাশকতা     |     
  • নেতানিয়াহুকে হটিয়ে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন গাদি আইজেনকট     |     
  • মিরপুরে বাসে অগ্নিকাণ্ডের চেষ্টা, চালক-সহকারীর তৎপরতায় এড়ালো বড় দুর্ঘটনা     |     
  • পোল্যান্ডে বন্দুকধারীর গুলিতে ৬ জন নিহত, আহত ১৫     |     
  • ট্রাকচাপায় শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪     |     
স্পোর্টস ডেস্ক খেলাধুলা 2026-10-19, 8:45pm

আফগানিস্তানের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য টাই করল বাংলাদেশ

অনূর্ধ্ব-১৯

afagn-3aa624d61a9aebe147441e57a8e08f881792421148.jpg

ছবি: সংগৃহীত


আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ম্যাচ টাই করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। সোমবার ওমানের আল আমেরাত ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সিরিজের দ্বিতীয় যুব ওয়ানডেতে দুই দলই ৩০৪ রান করে। আফগানিস্তানের ৩০৪ রানের জবাবে ৪৯ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩০৪ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। আফগান-বাংলাদেশ যুবাদের মধ্যকার ওয়ানডে ম্যাচে এটাই সর্বোচ্চ (৬০৮) মোট রানের রেকর্ড।

টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩০৪ রান সংগ্রহ করে তারা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন নোমান সালারজাই। ৯০ বলের ইনিংসে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা মারেন তিনি। এ ছাড়া ফারিদুল্লাহ ইহসাসের ৫১ এবং তাহির সারওয়ারির ৪৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে বড় সংগ্রহ পায় আফগান যুবারা।

ইনিংসের শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে আফগানিস্তান। আবিদুল্লাহ নাদারজান ও ফারিদুল্লাহ ইহসাসের উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ৫৬ রান। ২৭ বলে ২৩ রান করে আবিদুল্লাহ ফিরলে ভাঙে জুটি। এরপর ফারিদুল্লাহর সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন সুবহান জাখাইল। ৩৮ বলে ২৭ রান করে সুবহান আউট হওয়ার আগে দলের সংগ্রহ পৌঁছে যায় ১২৯ রানে।


ফারিদুল্লাহর ব্যাট থেকে আসে ৪৭ বলে ৫১ রান। তার ইনিংসে ছিল নয়টি চার। এরপর নোমান সালারজাই ও হামজা খানের জুটি আফগানিস্তানকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। হামজা ৪৪ বলে ২৯ রান করে ফিরলেও নোমান এক প্রান্ত আগলে রাখেন। পরে তাহির সারওয়ারির ৩১ বলে ৪৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস আফগানিস্তানকে তিনশ রানের কাছাকাছি পৌঁছে দেয়। তাহিরের ইনিংসে ছিল একটি চার ও তিনটি ছক্কা।


শেষ দিকে আমির হামজার ১১ বলে ২১ রানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার ব্যাট থেকে আসে একটি চার ও দুটি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ৩০৪ রান তুলে ইনিংস শেষ করে আফগানিস্তান।


বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন রুবাই ইসলাম রিজন। ৯ ওভারে ৭২ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন তিনি। এসকে জারিফ সিয়াম ১০ ওভারে মাত্র ৩৪ রান খরচায় দুটি উইকেট শিকার করেন। এ ছাড়া আল আমিন হোসেন ও শাকিল খান একটি করে উইকেট পান।


৩০৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই পাল্টা আক্রমণ করে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে এসকে জারিফ সিয়াম ও আবদুল্লাহ আল মুহি যোগ করেন ৭০ রান। ২৮ বলে ২২ রান করে জারিফ ফিরলে ভাঙে জুটি। এরপর আবদুল্লাহর সঙ্গে যোগ দেন আলামিন হোসেন রনি। আবদুল্লাহ ৪৫ বলে ৫০ রান করে আউট হওয়ার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০১ রানে।


তৃতীয় উইকেটে রনি ও আহসান আল মুমিনের ব্যাটে আরও এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৫৬ বলে ৭১ রান করেন রনি। তার ইনিংসে ছিল আটটি চার ও দুটি ছক্কা। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে জয়ের পথে রাখেন তিনি। তবে ২৭.৩ ওভারে রনি আউট হলে ভাঙে ৭৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।


এরপর আহসান আল মুমিনের সঙ্গে জুটি গড়েন রাকিবুল হোসেন। ৩০ বলে ২৫ রান করে রাকিবুল ফিরলেও আহসান দলের রান বাড়িয়ে নিতে থাকেন। ৬৬ বলে পাঁচটি চারের সাহায্যে ৫৬ রান করেন তিনি। তার বিদায়ের সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৩৯ রান। জয়ের জন্য তখনও প্রয়োজনীয় রান তোলার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে।


কিন্তু শেষ দিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক ফরিদ হাসান ২৯ বলে ১২ রান করে ফেরেন। রকিবুলের পর ফারিদ, রকিবুলের পরে রবিউল হাসান ১৩ বলে ১৫ রান করে আউট হন। শাকিল খানও ৮ বলে ৪ রান করে ফিরলে বাংলাদেশের জয়ের সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে যায়।


তবে শেষ দিকে রুবাই ইসলাম রিজনের ব্যাটে ম্যাচে ফেরার আশা জাগে। মাত্র ১৯ বলে ৩৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও দুটি ছক্কা। অন্য প্রান্তে শেখ আতিউর রহমান ৬ বলে অপরাজিত ৩ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ৪৯ ওভারে ৩০৪ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। আফগানিস্তানের সমান রান করায় ম্যাচটি টাই হয়।


আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে নূর আলী নিয়াজাই তিনটি উইকেট নেন। সোহেল খান ও লুৎফুল্লাহ মোহাম্মাদি দুটি করে উইকেট শিকার করেন। আমির হামজা পান একটি উইকেট।