News update
  • গুলশানে গাড়ি চাপায় পথচারীর মৃত্যু, ৯ লাখ টাকায় আসামিদের সঙ্গে আপোস     |     
  • টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব নি‌শ্চি‌তে জোর বাংলা‌দে‌শের     |     
  • জাতিসংঘে আজ প্রথমবার ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান     |     
  • অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড     |     
  • যুক্তরাষ্ট্রকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরানের     |     
বঙ্গলোক রিপোর্ট তথ্য ও প্রযুক্তি 2026-08-31, 10:04am

প্রযুক্তির ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের চাষাবাদ

bongolok-c97cbab6542918b9c7cb8b461e011fa31788149042.jpg

ছবি: এ আই দিয়ে তৈরি।


কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ ছিল সম্পূর্ণভাবে আবহাওয়া, শ্রমিক ও প্রচলিত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল। তবে সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় দেশের কৃষি খাতে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত বীজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন, স্যাটেলাইট তথ্য, স্মার্ট সেচব্যবস্থা ও ডিজিটাল কৃষি পরামর্শের ফলে কৃষি এখন ধীরে ধীরে আরও আধুনিক, উৎপাদনশীল ও লাভজনক হয়ে উঠছে।


আগে এক বিঘা জমি চাষ করতে কৃষকদের অনেক সময় ও শ্রম ব্যয় হতো। এখন পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মতো যন্ত্রের ব্যবহারে অল্প সময়ে বড় পরিমাণ জমির কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে ধান কাটার মৌসুমে কম্বাইন হারভেস্টারের ব্যবহার কৃষকদের শ্রম ও খরচ কমানোর পাশাপাশি ফসল দ্রুত ঘরে তুলতে সহায়তা করছে।


কৃষিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে কৃষকরা আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজারদর, রোগবালাই, সার ও কীটনাশকের ব্যবহার সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাচ্ছেন। ফলে কখন বীজ বপন করতে হবে, কখন সেচ দিতে হবে কিংবা কোন রোগের জন্য কী ব্যবস্থা নিতে হবে—এসব সিদ্ধান্ত আগের তুলনায় অনেক বেশি তথ্যনির্ভর হচ্ছে।


ড্রোন প্রযুক্তি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বড় জমিতে ড্রোন ব্যবহার করে ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ, রোগাক্রান্ত এলাকা শনাক্ত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সার বা বালাইনাশক প্রয়োগ করা সম্ভব। এতে একই সঙ্গে সময়, শ্রম ও কৃষি উপকরণের অপচয় কমানো যায়। ভবিষ্যতে ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বিত ব্যবহার কৃষি ব্যবস্থাপনায় আরও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।


অন্যদিকে, স্মার্ট সেচব্যবস্থা পানির অপচয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মাটির আর্দ্রতা পরিমাপকারী সেন্সরের মাধ্যমে জমিতে কখন পানি প্রয়োজন তা নির্ধারণ করা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দেওয়ায় পানি ও বিদ্যুৎ দুটোই সাশ্রয় হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানির সংকট বাড়তে থাকায় এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের কৃষিতে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা বিশ্লেষণ কৃষির নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। ছবি বিশ্লেষণের মাধ্যমে গাছের রোগ শনাক্ত করা, আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে ফসলের ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং উৎপাদনের সম্ভাব্যতা নির্ধারণ—এসব ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃষকের মোবাইল ফোনে ছবি তুলে রোগ শনাক্ত করার প্রযুক্তি সহজলভ্য হলে প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকরাও দ্রুত বিশেষজ্ঞ পরামর্শ পেতে পারেন।


প্রযুক্তির সুফল শুধু উৎপাদন পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়। ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস ও অনলাইন বাণিজ্য কৃষককে সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কৃষক ন্যায্য দাম পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক কৃষিপণ্য বিপণনের ফলে শহরের ভোক্তারাও সরাসরি গ্রাম থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারছেন।


তবে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির পথে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির দাম অনেক কৃষকের নাগালের বাইরে। গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট ও বিদ্যুতের সীমাবদ্ধতা, প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতার অভাব এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের ঘাটতিও বড় সমস্যা। ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রযুক্তির আওতায় আনতে সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা এবং মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ বাড়ানো প্রয়োজন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে হলে শুধু কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নয়, বরং ডিজিটাল কৃষি, নির্ভুল কৃষি (precision agriculture), এআই, রোবটিকস ও আধুনিক তথ্যব্যবস্থার সমন্বিত ব্যবহার বাড়াতে হবে। প্রযুক্তি কৃষকের বিকল্প নয়; বরং কৃষকের দক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার হাতিয়ার।


সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রযুক্তির হাত ধরে বাংলাদেশের কৃষি এখন আর শুধু লাঙল-জোয়ালনির্ভর খাত নয়। আধুনিক যন্ত্র, মোবাইল প্রযুক্তি, ড্রোন, সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত কৃষির চেহারা বদলে দিচ্ছে। সঠিক নীতি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আরও বিস্তৃত করা গেলে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।