
কৃষি খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে অর্থায়ন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, সাপ্লাই চেইনের উন্নয়ন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি কার্যকর ও গতিশীল এগ্রিকালচার ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ এবং প্রধান মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ-২-এর পরিচালক এ কে এম সাইদুজ্জামান এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রিটেইল ইনভেস্টমেন্ট উইংয়ের প্রধান আবু সাঈদ মো. ইদ্রিস নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিপত্র বিনিময় করেন।
চুক্তির মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থায়নের সুযোগ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে কৃষিপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি ফসল সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য সংযোজন এবং বাজারব্যবস্থা শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।
এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক জয়নাল আবেদিন ও সাখাওয়াত হোসেন এবং ইসলামী ব্যাংকের কৃষি বিনিয়োগ বিভাগের প্রধান মো. আমান উল্লাহসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাহী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বিবেচনায় নিয়ে কৃষির উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে এ ধরনের পুনঃঅর্থায়ন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ পর্যন্ত কৃষিপণ্যের পুরো মূল্য শৃঙ্খলে অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে কৃষি খাতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষির ভ্যালু চেইনে অর্থায়নের পরিমাণ বাড়লে কৃষক ও উদ্যোক্তারা উৎপাদনোত্তর ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারবেন। এতে কৃষিপণ্যের অপচয় কমানোর পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসার এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হবে।