
মুক্তিযুদ্ধের সময় একটি পরিবারের শরণার্থী হয়ে দেশ ছাড়ার অভিজ্ঞতা, উদ্বাস্তু জীবনের সংগ্রাম ও দেশে ফিরে আসার গল্প উঠে এসেছে শ্রব্য-দৃশ্য-কাব্যধর্মী প্রযোজনা ‘খুলনা একাত্তর: আমার মুক্তিযুদ্ধ’-এ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে কথা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের পরিবেশনায় প্রযোজনাটি মঞ্চস্থ হয়।
দীপা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘খুলনা একাত্তর: আমার মুক্তিযুদ্ধ’ বই অবলম্বনে প্রযোজনাটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৪ সালে বেঙ্গল থেকে প্রকাশিত বইটিতে মুক্তিযুদ্ধের প্রচলিত বয়ানের বাইরে শরণার্থী হিসেবে মানুষের দেশত্যাগ, যুদ্ধকালীন সাধারণ মানুষের সংগ্রাম ও ত্যাগের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
গান, বর্ণনাত্মক কাহিনি, আলো ও আবহসংগীতের সমন্বয়ে একটি পরিবারের শরণার্থী জীবনের নানা অধ্যায় মঞ্চে ফুটিয়ে তোলা হয়। প্রযোজনাটির মঞ্চ উপযোগী সম্পাদনা করেছেন আশরাফুল হাসান বাবু। নির্দেশনায় ছিলেন ড. তিতাস রোজারিও।
অনুষ্ঠান শেষে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী দীপা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়, লেখক ও সংগঠক মফিদুল হক, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক আশরাফুল আলম এবং ভার্গব বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। এ সময় তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
আয়োজকেরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে শুধু সম্মুখসারির মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের ইতিহাস জানলেই হবে না; একই সঙ্গে শরণার্থী শিবির, উদ্বাস্তু মানুষের দেশত্যাগ ও ফিরে আসা এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রাম ও ত্যাগের ইতিহাসও তুলে ধরা জরুরি।
তাঁদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের এই বিস্তৃত ও মানবিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘খুলনা একাত্তর: আমার মুক্তিযুদ্ধ’ মঞ্চে আনা হয়েছে।