News update
  • শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ     |     
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও'র সাথে বৈঠক     |     
  • ইউপি নির্বাচনের জন্য ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত     |     
  • বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ     |     
  • চালকের আসনে কিশোর, আসামির তালিকায় অন্যজন     |     
বিনোদন ডেস্ক বিনোদন 2026-09-13, 12:00pm

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা

রুপালি পর্দায় তিন দশকের বেশি সময় রাজত্ব, অভিনয় করেছেন প্রায় ৩০০ চলচ্চিত্রে

sabana-ebdb1dfabe263b96bc4e71a62ea7b1d71789279249.jpg


বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী অভিনেত্রী শাবানা। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন দর্শকের হৃদয়ে। শুধু সৌন্দর্য নয়, অভিনয়ের দক্ষতা ও চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতাই তাকে পরিণত করেছে চলচ্চিত্রের কিংবদন্তিতে।


শাবানার আসল নাম আফরোজা সুলতানা রত্না। ১৯৫২ সালের ১৫ জুন জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মাত্র ৯ বছর বয়সেই থেমে যায় তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন। তবে পড়াশোনা থেমে গেলেও থেমে থাকেনি তার জীবনের পথচলা। অল্প বয়সেই তিনি প্রবেশ করেন চলচ্চিত্রের জগতে।


শিশুশিল্পী হিসেবে ‘নতুন সুর’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তার চলচ্চিত্রযাত্রার শুরু। পরে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ‘চকোরী’ চলচ্চিত্রে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত তিনি ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় নায়িকা।


শাবানার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল বৈচিত্র্য। পারিবারিক গল্প, সামাজিক বাস্তবতা, আবেগ, সংগ্রাম কিংবা নারীর জীবনের নানা সংকট—বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে তিনি নিজের অভিনয়প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তার অভিনীত অনেক চলচ্চিত্রই পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।


দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শাবানা প্রায় ৩০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, তার অভিনীত চলচ্চিত্রের সংখ্যা ২৯৯। এর মধ্যে চিত্রনায়ক আলমগীরের সঙ্গে তার জুটি ছিল বিশেষভাবে জনপ্রিয়; তারা একসঙ্গে ১৩০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।


অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবেও শাবানা পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। ‘জননী’, ‘সখী তুমি কার’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘নাজমা’, ‘ভাত দে’, ‘অপেক্ষা’, ‘রাঙা ভাবী’, ‘মরণের পরে’ ও ‘অচেনা’র মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন।


শুধু অভিনেত্রী হিসেবে নয়, চলচ্চিত্র প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন শাবানা। দীর্ঘদিন রুপালি পর্দায় দাপটের সঙ্গে কাজ করার পর নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে তিনি অভিনয় থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। এরপর ধীরে ধীরে জনসম্মুখে তার উপস্থিতিও কমে যায়।


২০১৭ সালে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য শাবানাকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। এই স্বীকৃতি তার দীর্ঘ ও সফল চলচ্চিত্রজীবনের অন্যতম বড় অর্জন।


আজও বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকের কাছে শাবানা শুধু একজন নায়িকা নন, তিনি একটি যুগের নাম। পর্দায় তার অভিনীত চরিত্র, সংলাপ, পোশাক ও অভিনয়ের ধরন এখনো চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্মৃতিতে জীবন্ত। সময় বদলেছে, চলচ্চিত্রের ভাষা বদলেছে, বদলেছে নায়ক-নায়িকার ধরনও। কিন্তু শাবানার মতো তারকার জনপ্রিয়তা ও প্রভাব বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আলাদা একটি অধ্যায় হয়ে আছে।