News update
  • শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ     |     
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও'র সাথে বৈঠক     |     
  • ইউপি নির্বাচনের জন্য ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত     |     
  • বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ     |     
  • চালকের আসনে কিশোর, আসামির তালিকায় অন্যজন     |     
বিনোদন ডেস্ক বিনোদন 2026-09-19, 7:28am

পর্দার ভয়ংকর খলনায়ক রাজীব, বাস্তবে ছিলেন একেবারেই অন্যরকম

rajib-ceedaf94ac9610031ab5e582eaf36aba1789781298.jpg


বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে খলনায়ক চরিত্রের কথা উঠলেই যে কজন অভিনেতার নাম সবার আগে মনে আসে, তাদের অন্যতম ওয়াসীমুল বারী রাজীব। ভরাট কণ্ঠ, তীক্ষ্ণ চাহনি, শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব আর অভিনয়ের স্বতন্ত্র ধরন সব মিলিয়ে তিনি ঢাকাই সিনেমার খলচরিত্রে তৈরি করেছিলেন আলাদা এক অধ্যায়।

১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি পটুয়াখালীর দুমকিতে জন্ম রাজীবের। চলচ্চিত্রে আসার আগে তিনি তিতাস গ্যাস কোম্পানিতে চাকরি করতেন। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থেকেই পরে রূপালি পর্দায় পা রাখেন। ১৯৮১ সালে ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু হয়। পরের বছর কাজী হায়াতের ‘খোকনসোনা’ ছবির মাধ্যমে পরিচিতি পান।

তবে রাজীবের প্রকৃত পরিচিতি গড়ে ওঠে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। ১৯৮৪ সালে আমজাদ হোসেনের ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর খলনায়ক হিসেবে তার আলাদা অবস্থান তৈরি হয় বলে চলচ্চিত্রবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজীবের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তার কণ্ঠ। গম্ভীর ও ঝাঁঝালো সংলাপ বলার ধরন, চোখের তীক্ষ্ণ অভিব্যক্তি এবং চরিত্র অনুযায়ী শরীরী ভাষা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। ফলে পর্দায় তাকে দেখলেই দর্শকের মধ্যে তৈরি হতো এক ধরনের উত্তেজনা ও আতঙ্ক।

‘দাঙ্গা’, ‘ত্রাস’, ‘চাঁদাবাজ’, ‘দুর্নীতিবাজ’, ‘মীরজাফর’, ‘লুটতরাজ’, ‘খলনায়ক’, ‘দেশদ্রোহী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘হাঙর নদী গ্রেনেডসহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। শুধু খলনায়ক চরিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বিভিন্ন ধরনের চরিত্রেও অভিনয় করে নিজের বহুমাত্রিকতা দেখিয়েছেন।

চলচ্চিত্রে তার অভিনয়ের স্বীকৃতিও এসেছে জাতীয় পর্যায়ে। রাজীব মোট চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন বলে প্রথম আলো ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পর্দার বাইরে অন্য রাজীব

পর্দায় রাজীবকে যতটা ভয়ংকর চরিত্রে দেখা গেছে, বাস্তব জীবনে তার ব্যক্তিত্ব ছিল অনেকটাই ভিন্ন এমনটাই জানিয়েছেন তার পরিবার ও সহকর্মীরা। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে তার ছেলের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, রাজীব ছিলেন খোলামনের, সাদামাটা ও হাস্যোজ্জ্বল মানুষ। চলচ্চিত্রের চরিত্র আর পারিবারিক জীবনকে তিনি আলাদা রাখতেন।

সহকর্মীদের স্মৃতিতেও উঠে এসেছে একই ধরনের রাজীবের কথা। শুটিং সেটে তিনি চড়া মেজাজে কথা বলতেন না বলেও পারিবারিক সূত্রে প্রকাশিত বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ দর্শকের কাছে যে মানুষটি ছিলেন পর্দার ‘ভয়ংকর’ খলনায়ক, ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন অনেক বেশি শান্ত ও মিশুক।

মাত্র ৫২ বছরেই থেমে যায় কণ্ঠ

দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ২০০৪ সালের ১৪ নভেম্বর মাত্র ৫২ বছর বয়সে ক্যানসারে মারা যান রাজীব। তার মৃত্যুর পরও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে তার অভিনীত চরিত্রগুলো স্মরণীয় হয়ে আছে।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে খলনায়কের যে স্বতন্ত্র অভিনয়ধারা গড়ে উঠেছিল, রাজীব ছিলেন তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি। তার সংলাপ বলার ধরন, চাহনি ও চরিত্র উপস্থাপনের কৌশল পরবর্তী প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্যও একটি স্বতন্ত্র দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

পর্দায় ভয়ংকর খলনায়ক হিসেবে জনপ্রিয় হলেও বাস্তব জীবনে ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল ও মিশুক মানুষ অভিনেতা ওয়াসীমুল বারী রাজীব।