News update
  • ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২০০ ছাড়াল, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৮৬৬     |     
  • স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগামী বছরের প্রথম দিকে শুরু: মীর শাহে আলম     |     
  • বিশ্ববাজারে আরও কমলো জ্বালানি তেলের দাম     |     
  • পাসপোর্ট হারালে দ্বিতীয়বার থেকে জরিমানা ১০ হাজার টাকা     |     
মোহাম্মদ মামুন কবীর জলবায়ু ও পরিবেশ 2026-09-16, 11:49am

সূর্যের আলো ছাড়াই সাগরের গভীরে প্রাণের সংসার

যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, সেখানে কীভাবে প্রাণ টিকে থাকে? কীভাবে তৈরি হয় খাবার? কোথা থেকে আসে অক্সিজেন? আর কীভাবেই বা সমুদ্রের তলদেশে একটি সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্র বছরের পর বছর সচল থাকে?

89-7647966b7343c29048673252e490f7361789537798.jpg


পৃথিবীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশজুড়ে বিস্তৃত সমুদ্র। তার ওপরের অংশে সূর্যের আলো, ঢেউ ও বাতাসের উপস্থিতি চোখে পড়লেও গভীরে নামলেই বদলে যায় পুরো পরিবেশ। কোথাও ঘুটঘুটে অন্ধকার, কোথাও হিমশীতল পানি, আবার কোথাও প্রচণ্ড চাপ ও আগ্নেয় উত্তাপ। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও সমুদ্রের তলদেশে গড়ে উঠেছে প্রাণের বিস্ময়কর আবাসভূমি। মাছ, কাঁকড়া, অক্টোপাস, ঝিনুক, প্রবাল, জেলিফিশ থেকে শুরু করে নানা ধরনের অণুজীব অসংখ্য প্রাণী সেখানে নিজেদের মতো করে বেঁচে আছে।

প্রশ্ন হলো, যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, সেখানে কীভাবে প্রাণ টিকে থাকে? কীভাবে তৈরি হয় খাবার? কোথা থেকে আসে অক্সিজেন? আর কীভাবেই বা সমুদ্রের তলদেশে একটি সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্র বছরের পর বছর সচল থাকে?

বিজ্ঞানীদের গবেষণা বলছে, সমুদ্রের নিচের জীবন কোনো একক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল নয়। সূর্যের আলো যেখানে পৌঁছায় সেখানে সালোকসংশ্লেষণ, আর গভীর অন্ধকারে রাসায়নিক শক্তিনির্ভর খাদ্য উৎপাদন দুই প্রক্রিয়াই সামুদ্রিক জীবনের ভিত্তি। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে খাদ্যশৃঙ্খল, পানির স্রোত, পুষ্টি উপাদানের পুনঃচক্রায়ন এবং প্রাণীদের অসাধারণ অভিযোজন ক্ষমতা।

সমুদ্রের ওপরের স্তরেই জীবনের ভিত্তি

সমুদ্রের জীবজগতের বড় একটি অংশের জীবন শুরু হয় পানির ওপরের আলোকিত স্তর থেকে। সূর্যের আলো যেখানে পৌঁছাতে পারে, সেখানে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও সামুদ্রিক শৈবাল সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে। এই ক্ষুদ্র জীবগুলো নিজেরা বেঁচে থাকার পাশাপাশি সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি তৈরি করে।

ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনকে খায় ক্ষুদ্র প্রাণী বা জুপ্ল্যাঙ্কটন। তাদের খায় ছোট মাছ। এরপর সেই মাছ বড় মাছ, সামুদ্রিক পাখি, ডলফিন কিংবা অন্যান্য শিকারি প্রাণীর খাদ্যে পরিণত হয়। অর্থাৎ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীব থেকেই তৈরি হয় বিশাল সামুদ্রিক খাদ্যজাল।

সমুদ্রের ওপরের স্তরের এই জীবগুলো পৃথিবীর কার্বন চক্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে তারা কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।

আলো না থাকলেও থেমে যায় না জীবন

সমুদ্রের গভীরে সূর্যের আলো ক্রমেই কমে যায়। একটি নির্দিষ্ট গভীরতার পর প্রায় সম্পূর্ণ অন্ধকার নেমে আসে। সেখানে গাছপালার মতো সালোকসংশ্লেষণ সম্ভব নয়। তবু সেই অন্ধকারেও প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে।

গভীর সমুদ্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যের উৎস হলো ওপরের স্তর থেকে নিচে নেমে যাওয়া জৈব পদার্থ। মৃত প্ল্যাঙ্কটন, প্রাণীর ক্ষুদ্র অংশ ও অন্যান্য জৈব কণা পানির নিচে ধীরে ধীরে নামতে থাকে। দূর থেকে এগুলো দেখতে তুষারের মতো মনে হওয়ায় সামুদ্রিক বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে ‘মেরিন স্নো’ বা সামুদ্রিক তুষার নামে অভিহিত করেন।

সমুদ্রের গভীরে পৌঁছানোর পর এসব জৈব পদার্থ ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীবের খাদ্যে পরিণত হয়। এরপর ছোট প্রাণী সেই অণুজীব খায়, তাদের খায় আরও বড় প্রাণী। এভাবেই সূর্যের আলো সরাসরি না থাকলেও ওপরের স্তরের উৎপাদিত শক্তি ধীরে ধীরে গভীর সমুদ্রের খাদ্যজালে পৌঁছায়।

হাইড্রোথার্মাল ভেন্টে অন্যরকম জীবন

গভীর সমুদ্রের সবচেয়ে বিস্ময়কর আবাসভূমিগুলোর একটি হলো হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট। সমুদ্রতলের ফাটল দিয়ে ভূগর্ভের উত্তপ্ত ও খনিজসমৃদ্ধ পানি বেরিয়ে আসে। আশপাশের পানির তুলনায় এসব স্থানের তাপমাত্রা অনেক বেশি হতে পারে। তবু এর আশপাশে গড়ে উঠেছে বিশেষ ধরনের জীববৈচিত্র্য।

এখানে সূর্যের আলো না থাকায় খাদ্য তৈরির জন্য সালোকসংশ্লেষণের পরিবর্তে কাজ করে কেমোসিন্থেসিস। কিছু বিশেষ ব্যাকটেরিয়া পানিতে থাকা সালফার ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের শক্তি ব্যবহার করে জৈব খাদ্য তৈরি করতে পারে।

এই ব্যাকটেরিয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে সম্পূর্ণ একটি খাদ্যজাল। বিশাল আকারের টিউবওয়ার্ম, ঝিনুক, কাঁকড়া, চিংড়ি ও বিভিন্ন অণুজীব এই পরিবেশে বসবাস করতে পারে। অর্থাৎ সূর্যের আলো ছাড়াও পৃথিবীতে একটি স্বতন্ত্র জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠতে পারে গভীর সমুদ্রের এই অঞ্চল তার অন্যতম বড় উদাহরণ।

অন্ধকারে আলো তৈরি করে প্রাণীরা

গভীর সমুদ্রের অন্ধকারে বেঁচে থাকার জন্য অনেক প্রাণী নিজস্ব কৌশল তৈরি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ হলো বায়োলুমিনেসেন্স অর্থাৎ জীবের শরীর থেকে আলো উৎপন্ন হওয়া।

কিছু মাছ, জেলিফিশ, স্কুইড, ক্রাস্টেশিয়ানসহ নানা প্রাণী নিজের শরীরে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলো তৈরি করতে পারে। এই আলো তারা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে। শিকার আকর্ষণ, শিকারি প্রাণীকে বিভ্রান্ত করা, বিপদে সতর্ক করা কিংবা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বায়োলুমিনেসেন্স কাজে লাগতে পারে।

অন্ধকার পরিবেশে আলো তৈরি করার এই ক্ষমতা গভীর সমুদ্রের প্রাণীদের অভিযোজনের অসাধারণ উদাহরণ।

প্রচণ্ড চাপেও কীভাবে বেঁচে থাকে?

গভীর সমুদ্রে নামার সঙ্গে সঙ্গে পানির চাপ বাড়তে থাকে। কয়েক হাজার মিটার গভীরে চাপ সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় বহু গুণ বেশি। মানুষের শরীর এই চাপের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে নিতে পারে না। কিন্তু গভীর সমুদ্রের প্রাণীরা দীর্ঘ বিবর্তনের মাধ্যমে এমন বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে, যা তাদের এই পরিবেশে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।

অনেক গভীর সমুদ্রের প্রাণীর শরীরে গ্যাসভর্তি ফাঁপা অঙ্গ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তাদের কোষের ঝিল্লি ও প্রোটিনও এমনভাবে অভিযোজিত যে উচ্চচাপের পরিবেশে জৈবিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়।

তাদের বিপাকক্রিয়া, চলাফেরা ও খাদ্য গ্রহণের ধরনও অনেক ক্ষেত্রে অগভীর পানির প্রাণীদের তুলনায় আলাদা। ফলে মানুষের জন্য চরম প্রতিকূল পরিবেশ হলেও এসব প্রাণীর জন্য সেটিই স্বাভাবিক আবাসভূমি।

সমুদ্রতলের পলিতেও রয়েছে প্রাণের জগৎ

সমুদ্রের তলদেশের কাদা, বালি ও পাথরের ওপরিভাগ দেখতে নির্জীব মনে হলেও সেখানে অসংখ্য অণুজীব বাস করে। ব্যাকটেরিয়া, কেঁচোসদৃশ ক্ষুদ্র প্রাণী, বিভিন্ন ধরনের কৃমি ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী সমুদ্রতলের পলির মধ্যে বসবাস করে।

তারা মৃত জৈব পদার্থ ভেঙে পুষ্টি উপাদান পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়। এই প্রক্রিয়ার ফলে কার্বন, নাইট্রোজেন, ফসফরাসসহ বিভিন্ন উপাদানের চক্র অব্যাহত থাকে। এক প্রজন্মের জীবের দেহাবশেষ পরবর্তী প্রজন্মের জীবের জন্য পুষ্টির উৎস হয়ে ওঠে।

এ কারণেই সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে পচনকারী অণুজীবের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রবালপ্রাচীর যেন সমুদ্রের নগরী

সমুদ্রের অপেক্ষাকৃত অগভীর অঞ্চলে প্রবালপ্রাচীরকে বলা যায় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসভূমি। প্রবাল দেখতে পাথরের মতো হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি অসংখ্য ক্ষুদ্র প্রাণীর তৈরি জীবন্ত কাঠামো।

প্রবালপ্রাচীরের ফাঁক, গর্ত ও আশপাশে নানা প্রজাতির মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি, শামুক ও অন্যান্য প্রাণী আশ্রয় নেয়। কিছু প্রবালের সঙ্গে বসবাসকারী ক্ষুদ্র শৈবাল তাদের খাদ্য তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রবালপ্রাচীর শুধু প্রাণীদের আশ্রয়ই দেয় না; উপকূলকে ঢেউয়ের শক্তি থেকে রক্ষা করা, সামুদ্রিক খাদ্যসম্পদ টিকিয়ে রাখা এবং মানুষের জীবিকার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।

অক্সিজেনের সরবরাহও একটি চলমান প্রক্রিয়া

সাগরের প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন অপরিহার্য। সমুদ্রের ওপরের স্তরে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও অন্যান্য আলোকসংশ্লেষী জীব অক্সিজেন উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে বায়ুমণ্ডল থেকেও অক্সিজেন পানিতে দ্রবীভূত হয়।

পানির স্রোত, ঢেউ এবং বিভিন্ন স্তরের পানির মিশ্রণের মাধ্যমে অক্সিজেন নিচের দিকে যেতে পারে। তবে গভীর সমুদ্রের সব জায়গায় অক্সিজেনের পরিমাণ সমান নয়। কোথাও অক্সিজেন তুলনামূলক বেশি, আবার কোথাও কম। এই পার্থক্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বিভিন্ন প্রাণী নিজেদের জীবনধারা গড়ে তুলেছে।

তাপমাত্রার সঙ্গে অভিযোজন

সমুদ্রের গভীরতা বাড়লে সাধারণত পানির তাপমাত্রা কমে যায়। অনেক গভীর অঞ্চলে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি থাকতে পারে। অন্যদিকে হাইড্রোথার্মাল ভেন্টের আশপাশে অত্যন্ত উষ্ণ পানি পাওয়া যায়।

এই দুই ধরনের চরম পরিবেশের মাঝেও বিভিন্ন প্রাণী নিজেদের শরীর ও বিপাকক্রিয়াকে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। ঠান্ডা পানিতে বসবাসকারী প্রাণীদের বিপাকক্রিয়া তুলনামূলক ধীর হতে পারে। আবার উষ্ণ প্রস্রবণের আশপাশে বসবাসকারী অণুজীবদের অনেকেই উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে সক্ষম।

জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ

সমুদ্রের নিচের এই বিস্ময়কর জীবনব্যবস্থাও বর্তমানে নানা ধরনের হুমকির মুখে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, পানি দূষণ, অতিরিক্ত মাছ ধরা, প্লাস্টিক বর্জ্য, অক্সিজেনের ঘাটতি এবং সমুদ্রের অম্লতা বৃদ্ধির মতো পরিবর্তন সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে প্রভাব ফেলছে।

বিশেষ করে প্রবালপ্রাচীর উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে প্রবাল তাদের সঙ্গে বসবাসকারী শৈবাল হারাতে পারে। এতে প্রবালের রং ফিকে হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, যা প্রবাল ব্লিচিং নামে পরিচিত।

একইভাবে সমুদ্রের রাসায়নিক পরিবেশ বদলে গেলে কিছু সামুদ্রিক প্রাণীর খোলস বা কঙ্কাল তৈরির প্রক্রিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশাল সমুদ্র এখনো অনেকটাই অজানা

সমুদ্রের বিশাল অংশ এখনো মানুষের সরাসরি অনুসন্ধানের বাইরে। বিশেষ করে গভীর সমুদ্রের বহু অঞ্চল সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের জ্ঞান সীমিত। নতুন নতুন অভিযানে নিয়মিত এমন প্রাণী ও বাস্তুতন্ত্রের সন্ধান মিলছে, যেগুলো সম্পর্কে আগে মানুষের ধারণাই ছিল না।

গভীর সমুদ্র অনুসন্ধানে সাবমার্সিবল, দূরনিয়ন্ত্রিত যান এবং স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব প্রযুক্তির সাহায্যে সমুদ্রতলের ভূপ্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য, রাসায়নিক পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে নতুন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সমুদ্রের নিচে প্রাণের অস্তিত্ব তাই শুধু প্রকৃতির বিস্ময় নয়; এটি পৃথিবীর পরিবেশগত ভারসাম্য বোঝারও একটি গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি।

সাগরের নিচের প্রাণীদের আবাসভূমি কোনো একটি কারণে টিকে নেই। সূর্যের আলো থেকে শুরু করে রাসায়নিক শক্তি, ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন থেকে শুরু করে অণুজীব, সামুদ্রিক স্রোত থেকে পুষ্টির পুনঃচক্রায়নসবকিছু মিলেই তৈরি হয়েছে এই বিশাল জীবন্ত জগৎ।

কোথাও প্রবালপ্রাচীর হাজারো প্রাণীকে আশ্রয় দিচ্ছে, কোথাও অন্ধকারে আলো ছড়াচ্ছে অদ্ভুত সামুদ্রিক প্রাণী, আবার কোথাও সূর্যের আলো ছাড়াই রাসায়নিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে চলছে সম্পূর্ণ খাদ্যশৃঙ্খল।

পৃথিবীর স্থলভাগ সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি হলেও সমুদ্রের গভীরতা এখনো রহস্যে ঘেরা। সেই রহস্যের ভেতরেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীবজগত। তাই সমুদ্র রক্ষা মানে শুধু পানি ও মাছ রক্ষা নয়; বরং পৃথিবীর একটি বিশাল, জটিল ও পরস্পরনির্ভর জীবনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা।