
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তঃনগর 'কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস' ট্রেনে এক নারী যাত্রীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ৪ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ ঘটনার প্রধান আসামি, ট্রেনের কেন্টিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিককে (২২) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
কর্তব্যে অবহেলা ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ট্রেনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তারা হলেন খোকন ইসলাম (সহকারী টাউন সাব-ইন্সপেক্টর - এটিএসআই), গোলাম মোস্তফা (কনস্টেবল), ফজলে রাব্বী (কনস্টেবল), আশিকুল রহমান (কনস্টেবল)।
ভুক্তভোগী নারী সিরাজগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে ট্রেনে ওঠেন। ট্রেনটি চলন্ত অবস্থায় নাটোর এলাকা পার হওয়ার সময় ট্রেনের দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্য ওই নারীর কাছে 'মাদক আছে' বলে অভিযোগ তোলেন। মাদক খোঁজার অজুহাতে ওই দুই পুলিশ সদস্য তাকে ট্রেনের খাবার বগিতে (ক্যান্টিন) নিয়ে যান। সেখানে পুলিশ সদস্যরা ওই নারীকে প্রথমে যৌন হয়রানি (শ্লীলতাহানি) করেন এবং এরপর তাকে সেখানে রেখে চলে যান। পুলিশ সদস্যরা চলে যাওয়ার পর খাবার বগির কর্মচারী (ক্যান্টিন বয়) আবু বক্কর সিদ্দিক ওই নারীকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন।
ওই নারীর চিৎকার শুনে ট্রেনের অন্য যাত্রীরা এগিয়ে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করে ক্যান্টিন বয় আবু বক্করকে আটকে রাখেন। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা '৯৯৯'-এ কল করে বিষয়টি জানানো হলে সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছামাত্র ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আবু বক্কর সিদ্দিক ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই এই ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং রেলওয়ে পুলিশ দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ক্য্যাটারিং বা খাবার বগির চুক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।