
সিডনি ভৌগোলিক মানচিত্রে দক্ষিণ এশিয়ার উর্বর বদ্বীপ বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ গোলার্ধের খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ অস্ট্রেলিয়ার দূরত্ব হাজার মাইলের। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে, হৃদ্যতা, সংস্কৃতি, মেধা আর পারস্পরিক মানবিকতার বন্ধনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আজ এক অনন্য ও বিশ্বনন্দিত উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বিশ্বায়নের এই যুগে প্রবাসী বাংলাদেশিরা কেবল নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সুদূর প্রশান্ত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রে পাড়ি জমাননি, বরং তাদের সততা, কঠোর শ্রম ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার বহুসাংস্কৃতিক (Multicultural) সমাজ গঠনে এক অপরিহার্য ও অনবদ্য অবদান রাখছেন। অস্ট্রেলিয়ার Australian Bureau of Statistics (ABS)-এর সর্বশেষ প্রাতিষ্ঠানিক আদমশুমারি ও সাম্প্রতিক ডেমোগ্রাফিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বসবাসরত মোট বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ৭৬,০০০ জনের বেশি, যা অনানুষ্ঠানিক ও নতুন ভিসাধারীদের হিসাবে প্রায় লক্ষাধিক। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ অর্থাৎ প্রায় ২৭,৮৬৪ জন বাস করেন নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের বৃহত্তর সিডনি (Greater Sydney) এলাকায়।
লিঙ্গভিত্তিক জনসংখ্যার অনুপাতে সিডনিতে পুরুষের সংখ্যা প্রায় ১৪,৯৯১ জন (৫৩.৮%) এবং নারীর সংখ্যা প্রায় ১২,৮৭৩ জন (৪৬.২%)। একসময়ের সাধারণ ও স্বল্পসংখ্যক অভিবাসী সমাজ আজ এই মহাদেশের বুকে শিক্ষা, চিকিৎসা, আইনি অঙ্গন, করপোরেট খাত, গণমাধ্যম এবং মূলধারার রাজনীতির নীতিনির্ধারণী মঞ্চে চালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
প্রবাসের এই বৈচিত্র্যময় সমাজে বাংলাদেশিদের কল্যাণ, অধিকার রক্ষা এবং সর্বোপরি বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক মানবিক সুসম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখতে বেশ কিছু সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও চ্যারিটি সংগঠন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষক: উচ্চশিক্ষার হাত ধরে মেধার বিশ্বজয়অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির মূল ভিত্তি এবং বিকাশ ত্বরান্বিত হয়েছে উচ্চশিক্ষার হাত ধরে। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী দেশটির নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য পাড়ি জমান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলীয় সরকারের কঠোর ও পরিমার্জিত ভিসা নীতিমালার কারণে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হলেও, এদেশের আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি বাংলাদেশিদের আগ্রহ কমেনি। পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম কাজ এবং পরবর্তীতে স্থায়ী আবাসন (PR) পাওয়ার ক্ষেত্রে আইটি, ডেটা সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের শিক্ষার্থীরা বিশেষ অবদান রাখছেন।একই সাথে উচ্চশিক্ষার এই চাকা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছেন প্রথিতযশা বাংলাদেশি শিক্ষাবিদেরা। সিডনি ইউনিভার্সিটি, মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি, মোনাস ইউনিভার্সিটি কিংবা ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের (UNSW) মতো প্রথম সারির বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনেক বাংলাদেশি অধ্যাপক, গবেষক ও লেকচারার অত্যন্ত সুনামের সাথে কর্মরত আছেন। তারা কেবল বৈশ্বিক গবেষণায় নতুন নতুন তত্ত্ব ও উদ্ভাবন দিয়ে অবদান রাখছেন না, বরং অস্ট্রেলিয়ায় আসা নতুন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মেন্টর বা পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ল্যাবরেটরি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বিভাগেও এখন বাংলাদেশি মেধার জয়জয়কার।
সাংবাদিক ও আইনজীবী: কমিউনিটির কণ্ঠস্বর ও আইনি সুরক্ষাএকটি অভিবাসী সমাজ যত বড় ও পরিপক্ব হয়, তার অভ্যন্তরীণ আইনি জটিলতা এবং গণমাধ্যমগত চাহিদাও তত বৃদ্ধি পায়। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি lawyers বা আইনজীবীরা বর্তমানে দেশটির বিচার ব্যবস্থার মূলধারায় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে যুক্ত আছেন। সিডনি ও মেলবোর্নের কোর্টগুলোতে অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সলিসিটর ও ব্যারিস্টার প্র্যাকটিস করছেন। অভিবাসন আইন (Migration Law), বাণিজ্যিক আইন, প্রপার্টি কেনাবেচার আইনি প্রক্রিয়া এবং পারিবারিক জটিলতায় তারা একদিকে যেমন প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশ্বস্ত ও সুলভ সমাধান দিচ্ছেন, অন্যদিকে মূলধারার বিচার বিভাগেও নিজেদের অবস্থান পোক্ত করছেন।
পাশাপাশি প্রবাসের মাটিতে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও বাংলা ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন বাংলাদেশি মূলধারার সাংবাদিকেরা। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় গণমাধ্যম SBS Bangla-এর মতো বেতার ও ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়াও প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজস্ব উদ্যোগে বেশ কিছু নিয়মিত অনলাইন পোর্টাল, সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। এই সাংবাদিকেরা অস্ট্রেলিয়ার বুকে বাংলাদেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার পাশাপাশি অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা, সরকারের নতুন অভিবাসন নীতিমালার সহজ ব্যাখ্যা প্রদান এবং প্রবাসীদের সুখ-দুঃখের কথা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন। প্রবাসের ব্যস্ততার মধ্যেও তাদের এই সৃজনশীল প্রয়াস সিডনি-মেলবোর্নের মিডিয়া পাড়াকে মুখরিত করে রাখে। অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও প্রফেশনাল বৈচিত্র্যঅস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশিদের অর্থনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় ও মর্যাদাপূর্ণ। দক্ষ অভিবাসন (Skilled Migration) প্রক্রিয়ায় আসা প্রকৌশলী, সফটওয়্যার ডেভেলপার, হিসাবরক্ষক (CPA), ব্যাংকার এবং করপোরেট কর্মকর্তাদের গড় আয় অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় আয়ের প্রথম সারিতে অবস্থান করছে।
আইটি খাতে বাংলাদেশি যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং ও করপোরেট চাকরি প্রবাসে তাদের দ্রুত অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করছে। guerrillaএছাড়া অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশি চিকিৎসাবিদ এবং নিবন্ধিত নার্সরা (Registered Nurses) প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন।
মেলবোর্ন ও সিডনির বড় বড় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আজ বাংলাদেশি ডাক্তারদের কর্মদক্ষতা সর্বজনবিদিত। অনেকেই আবার নিজস্ব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। এই পেশাজীবীদের উপার্জিত ও সঞ্চিত অর্থের একটি বিশাল অংশ বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স হিসেবে প্রতি মাসে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে, যা বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।রাজনীতিতে ঐতিহাসিক মাইলফলক ও নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণঅস্ট্রেলিয়ার মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এখন আর কেবল স্বপ্ন বা সখের বিষয় নয়, বরং এক দৃশ্যমান বাস্তব সত্য।
অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাংলাদেশিদের জয়জয়কার এখন চোখে পড়ার মতো। অতি সম্প্রতি, সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল এলাকা ক্যামডেন কাউন্সিলের (Camden Council) deputy mayor বা ডেপুটি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা রহমান (এলিজা আজাদ)। তিনি অস্ট্রেলিয়ার কোনো স্থানীয় সরকার সংস্থায় এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি নারী। এর আগে মাসুদ খলিল নামের আরেকজন বাংলাদেশি সফলভাবে ক্যাম্পবেলটাউন সিটির ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া ড. সাবরিন ফারুকী ও সাজেদা আক্তার সানজিদার মতো নারীরা দীর্ঘ সময় ধরে কাউন্সিলর হিসেবে মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত আছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান দুটি political party—লেবার পার্টি ও লিবারেল পার্টির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশিদের এই ক্রমবর্ধমান অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে, প্রবাসী এই প্রজন্ম এখন কেবল করদাতা হিসেবে নয়, বরং অস্ট্রেলিয়ার শাসনব্যবস্থা ও নীতি প্রণয়নেও সরাসরি নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে।
চেনা বৃত্তের বাইরে: প্রান্তিক শহরের জীবনসংগ্রামসিডনির লাকেম্বা, ওয়াইলি পার্ক, রকডেল কিংবা মেলবোর্নের জমজমাট 'মিনি বাংলাদেশ'-এর বাইরে অস্ট্রেলিয়ার এমন কিছু প্রান্তিক ও দূরবর্তী রাজধানী শহর রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি একেবারেই হাতেগোনা। তাসমানিয়া রাজ্যের শান্ত ও হিমশীতল শহর হোবার্ট (Hobart) এবং নর্দার্ন টেরিটোরির ক্রান্তীয় ও আর্দ্র আবহাওয়ার শহর ডারউইন (Darwin)—এই দুই অঞ্চলে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সবচেয়ে কম (গড়ে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ জন)। সিডনি বা মেলবোর্নের মতো এখানে বিশাল কোনো করপোরেট হাব বা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি না থাকায় এবং ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে প্রবাসীরা এখানে কম আসলেও, যারা আছেন তারা স্থানীয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অভাবনীয় অবদান রাখছেন।
সিডনির বিশাল বৈশাখী মেলার মতো জাঁকজমক না থাকলেও, এখানকার ঘরোয়া আয়োজনে মাটির গন্ধ আর একাত্মতা থাকে অনেক বেশি।সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও চ্যারিটি সংগঠনের মানবিক ভূমিকাপ্রবাসীদের সামাজিক সংহতি ও দুই দেশের মৈত্রীর নেপথ্য কারিগর হিসেবে কাজ করছে বেশ কিছু শক্তিশালী সংগঠন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Association of Australia (BAOA) হলো সবচেয়ে প্রাচীন সংগঠন, যা নতুন প্রবাসীদের আবাসন ও মানসিক ভরসা দেয়। ১৯৯৮ সালে গঠিত Bangladesh Australia Disaster Relief Committee (BADRC) কেবল বাংলাদেশের দুর্যোগেই পাশে দাঁড়ায়নি, বরং অস্ট্রেলিয়ার বুশফায়ার (দাবদাহ) ও বন্যায় স্থানীয় অস্ট্রেলীয়দের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা দুই দেশের জনগণের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।পাশাপাশি, Bangladesh Forum of Australia (BFA) প্রফেশনাল মেন্টরশিপ দেয় এবং মেলবোর্নভিত্তিক Australia Bangladesh Council of Victoria (ABCV) জরুরি মানবিক ও শেষকৃত্য সহায়তা প্রদান করে। সিডনি ও মেলবোর্নের ক্যাম্পাসভিত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলো (যেমন UTS BDSOC) নতুন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবে কাজ করছে। সুসম্পর্কের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সমাপনীএই সামাজিক ও চ্যারিটি সংগঠনগুলোর নিঃস্বার্থ ও মানবিক কাজের পরিধি কেবল প্রবাসীদের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দুই দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের Department of Foreign Affairs and Trade (DFAT)-এর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন, শিক্ষাখাত এবং বিশেষ করে রোহিঙ্গা refugees বা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তায় প্রতি বছর বড় অঙ্কের তহবিল প্রদান করে আসছে।সিডনি থেকে মেলবোর্ন, ক্যানবেরা থেকে পার্থ—অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি শহরে এই সংগঠনগুলো কেবল প্রবাসীদের স্বার্থই রক্ষা করছে না, বরং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এক একটি উজ্জ্বল ও মানবিক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে। তাদের এই নিরলস প্রচেষ্টা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের ফলে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জনগণ আজ বাংলাদেশিদের একটি শান্তিপ্রিয়, কর্মঠ, আইনি বাধ্যতা মানা এবং অত্যন্ত সম্মানজনক কম্যুনিটি হিসেবে গণ্য করে। সুদূরপ্রবাসে এই সামাজিক ও মানবিক মেলবন্ধন আগামী দিনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, উচ্চশিক্ষা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং সর্বোপরি বিশ্ব মানবতার কল্যাণে এক নতুন ও গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করবে—এটাই প্রশান্তের তীর থেকে আমাদের দৃঢ় প্রত্যাশা।