News update
  • শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ     |     
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও'র সাথে বৈঠক     |     
  • ইউপি নির্বাচনের জন্য ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত     |     
  • বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ     |     
  • চালকের আসনে কিশোর, আসামির তালিকায় অন্যজন     |     
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রথম পাতা 2026-09-20, 9:04am

পটুয়াখালীতে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষ, নিহত ৪

accident-8876489ce00d6d9fdf61ed1c773f047e1789873489.jpg


পটুয়াখালীতে অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকাগামী একটি বাস খাদে পড়ে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাক বাজারসংলগ্ন ধলু গাজীর মোড় এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামের রাজ্জাক প্যাদার ছেলে কাইউম প্যাদা (৫০), একই উপজেলার চার আনি বাউরিয়া গ্রামের অনিল হাওলাদারের মেয়ে শিল্পী রানী (৪০), বদরপুর গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদারের ছেলে জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৩৫) এবং বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের ধীরেন মিস্ত্রীর মেয়ে তিথী (২৩)। রাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে।

নিহতদের মরদেহ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইমরান ট্রাভেলসের বাসটি ধলু গাজীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুই যানবাহনই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, নিহত চারজনই অটোরিকশাটির যাত্রী ছিলেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি পানিতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে বাসের যাত্রীদের মধ্যে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বাসের চালক ও সুপারভাইজার দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বাসের যাত্রী সালমান বলেন, ‘বাসটি শুরু থেকেই খুব রাফ চালাচ্ছিল। তারপর কীভাবে কী হলো, কিছুই বুঝতে পারলাম না। আল্লাহ তাআলা আমাদের বাঁচিয়েছেন।’

আরেক যাত্রী আবির ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঢাকায় তাবলিগ জামাতে যাচ্ছিলাম। সঙ্গে ঢাকায় বেড়াতে যাওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। বাসটি এখানে এসে খাদে পড়ে যায়। আমরা ভেতরে বসে ভাবছিলাম, এই বুঝি জীবনের শেষ। আমার নাতিটাকে কোলে নিয়ে আমি অনেক দূরে ছিটকে যাই। ওর মা ভাবছিল, নাতি আর নেই। পরে আমি চিৎকার করে জানাই, আমি ও নাতি বেঁচে আছি। আল্লাহ তাআলা আমাদের হেফাজত করেছেন।’

পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান বলেন, ‘বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে। বাসের ভেতরে কেউ আটকে আছেন কি না অথবা পানির ভেতরে আর কোনো মরদেহ আছে কি না, তা দেখতে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।’

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম এখনো চলমান। উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আরও কেউ নিহত হয়েছেন কি না, তা বলা যাবে। পরবর্তীতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’