
ছবি: সিডনির মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠান SBX Money-এর মালিক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো বৈধ রেমিট্যান্সের প্রবাহে ব্যাপক জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ছিয়াত্তর হাজার বাংলাদেশী প্রবাসী বসবাস করছেন। গত কয়েক বছরে ওশেনিয়া অঞ্চলের এই দেশটিতে বাংলাদেশী প্রবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বৈধ পথে দেশে টাকা পাঠানোর প্রবণতা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া থেকে রেমিট্যান্সের বার্ষিক, মাসিক এবং দৈনিক প্রবাহ বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রধান চিত্রটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতি বছর অস্ট্রেলিয়া থেকে বৈধ ব্যাংকিং ও ডিজিটাল চ্যানেলে বাংলাদেশে সর্বমোট প্রায় ২৫৮.১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় যা প্রায় ৩,১০০ কোটি টাকা) রেমিট্যান্স আসছে। এই বাৎসরিক আয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রবাসীরা প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২১.৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠাচ্ছেন। অর্থাৎ, প্রতিদিনের লেনদেন হিসাব করলে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে প্রবাসীরা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৭ লক্ষ ৭ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় যা প্রায় ৮.৫ কোটি টাকা) রেমিট্যান্স বৈধ মাধ্যমে দেশে পাঠাচ্ছেন।
এই রেমিট্যান্স প্রবাহের সুনির্দিষ্ট বাস্তব চিত্র তুলে ধরে সিডনির লাকাম্বায় (Lakemba) অবস্থিত নিবন্ধিত মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠান SBX Money-এর মালিক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, "অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে এখন বৈধ উপায়ে টাকা পাঠানোর প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। সরকারের ঘোষিত ২.৫% নগদ প্রণোদনা এবং উন্নত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেনের সুবিধার কারণে প্রবাসীরা এখন অবৈধ হুন্ডি সম্পূর্ণ পরিহার করছেন।"
ব্যবসায়িক খতিয়ান তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, সিডনি ও মেলবোর্নের প্রবাসীদের আস্থার কারণে বর্তমানে তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকেই দৈনিক গড়ে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ মার্কিন ডলার বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে, যা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে সরাসরি চাঙ্গা করতে ভূমিকা রাখছে।
রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারার বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী গাজীপুর এসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সরকার জানান, "অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশী পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। ছিয়াত্তর হাজার প্রবাসীর কষ্টার্জিত এই অর্থ শুধু রেমিট্যান্স নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।"বর্তমানে সিডনির লাকাম্বা, রকডেল বা মেলবোর্নের মতো বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকাগুলো থেকে প্রবাসীদের মাঝে ব্যাংকিং ও প্রাতিষ্ঠানিক আইনি চ্যানেলে টাকা পাঠানোর এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা উৎসবের মরসুমে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়।