
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে আগুন লাগার গুজবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শত শত রোগী ও স্বজন ওয়ার্ড থেকে বের হয়ে হাসপাতালের বাইরে চলে আসেন। এ সময় দৌড়ে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, হাসপাতালে আগুন লাগার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অক্সিজেন প্লান্টের ট্যাংকে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হলে নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেফটি রিলিজ ভালভ দিয়ে অতিরিক্ত অক্সিজেন বের হয়ে যায়। এ সময় উচ্চ শব্দ হওয়ায় হাসপাতালের ভেতরে আগুন লাগার গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
বিকট শব্দ শুনে রোগী ও স্বজনেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে আগুন লেগেছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে রোগীরা হুড়োহুড়ি করে নিচে নেমে আসেন। অনেকে দৌড়ে হাসপাতালের বাইরের সড়কে চলে যান। এ সময় আতঙ্কে কয়েকজন আহত হন।
হাসপাতালের অক্সিজেন প্লান্টের বিআইই ট্যাংক অপারেটর রিপন চৌধুরী বলেন, ট্যাংকের ভেতরে অক্সিজেনের চাপ বেড়ে গেলে নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে সেফটি রিলিজ ভালভ দিয়ে অতিরিক্ত চাপ বের হয়ে যায়। এতে উচ্চ শব্দ হতে পারে। অক্সিজেন স্বাভাবিক চাপে এলে পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, অক্সিজেন প্লান্ট চালুর পর থেকেই এ ধরনের ঘটনা হয়ে আসছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালি বলেন, বিকট শব্দ শোনার পর গুজবের কারণে রোগী ও স্বজনেরা আতঙ্কিত হয়ে ওয়ার্ড থেকে নিচে নেমে আসেন। হাসপাতালে আগুন লাগার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় কেউ আহতও হননি। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে। রোগীরাও নিজ নিজ ওয়ার্ডে ফিরে গেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক ফারুক আহমদ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আগুন লাগার কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি। অক্সিজেন প্লান্টেও অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায়নি। গুজব থেকেই রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগী ও স্বজনদের আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।