News update
  • শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ     |     
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও'র সাথে বৈঠক     |     
  • ইউপি নির্বাচনের জন্য ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত     |     
  • বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ     |     
  • চালকের আসনে কিশোর, আসামির তালিকায় অন্যজন     |     
নিজস্ব প্রতিবেদক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা 2026-09-10, 7:40am

দেশে হামে মৃত্যু ১ হাজার ছাড়াল, এক দিনে নতুন রোগী ১১৮৮

ham-79af0c177db2ee64b7301af6e1d536341789004457.jpg


দেশে হাম পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১১৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। একই সময়ে ৬৯ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও তিনজন। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে ১ হাজার ২ জনে দাঁড়িয়েছে।


বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিনজনের একজন ঢাকা বিভাগের এবং দুজন ময়মনসিংহ বিভাগের।


স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৪ জন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯৬৯ জন।


গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৯০৪ জনের শরীরে।


চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন।


ঢাকায় আক্রান্ত ও মৃত্যু বেশি


সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ৭২ হাজার ৩৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ১৯৫ জনের। সন্দেহজনক হামে এ বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৪০৪ জনের।


আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৩২ হাজার ৯৩৬ জনের এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৭১১ জনের শরীরে।


এ ছাড়া বরিশাল, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগেও হাম ও হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে।


সন্দেহজনক হাম রোগীর মৃত্যুর ক্ষেত্রেও ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে আধিক্য রয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলা এবং ঢাকা জেলায় সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।


লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি টিকা


হামের বিস্তার ঠেকাতে জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতেও ব্যাপকসংখ্যক মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এ কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন। এর বিপরীতে টিকা পেয়েছেন ১ কোটি ৯৭ লাখ ৪৬ হাজার ৭৭৩ জন। ফলে জাতীয় পর্যায়ে টিকাদানের কাভারেজ দাঁড়িয়েছে ১০৯ দশমিক ৬ শতাংশে।


বিভাগগুলোর মধ্যে টিকাদানের কাভারেজ সবচেয়ে বেশি ময়মনসিংহে—১১৫ শতাংশ। সিলেটে এ হার সবচেয়ে কম, ১০৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে সেখানেও লক্ষ্যমাত্রার ১০০ শতাংশের বেশি মানুষ টিকা পেয়েছেন।


সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ জন। এর বিপরীতে টিকা পেয়েছেন ২০ লাখ ৬৯ হাজার ৯১১ জন। এসব এলাকায় টিকাদানের কাভারেজ ১০৮ দশমিক ৬ শতাংশ।


সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে গাজীপুরে টিকাদানের কাভারেজ সর্বোচ্চ ১১৫ দশমিক ৭ শতাংশ। রংপুরে সর্বনিম্ন ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ।


স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনা হলেও দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এখনো উল্লেখযোগ্য। ফলে রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।