News update
  • শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ     |     
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও'র সাথে বৈঠক     |     
  • ইউপি নির্বাচনের জন্য ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত     |     
  • বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ     |     
  • চালকের আসনে কিশোর, আসামির তালিকায় অন্যজন     |     
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক 2026-09-01, 8:57am

৬০ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার মণীষা, বেঁচে আছেন মা-বাবাও

1000-0c3761b1282ffb6d1e0d5fa5f0238fbe1788231477.jpg


চারদিকে ধ্বংসস্তূপ। পাহাড় থেকে নেমে আসা প্রবল স্রোতে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ঘরবাড়ি। স্বজন হারানোর কান্নায় ভারী চারপাশ। এরই মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ভেসে আসে ক্ষীণ এক শিশুর কান্না। সেই কান্নাই যেন জানিয়ে দেয়—সব শেষ হয়ে যায়নি।


নেপালের রসুয়া জেলার টিমুরে গ্রামে ভয়াবহ ভোটেকোশী বন্যার প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ছয় বছরের শিশু মণীষা মারগারকে।


নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনতে পান। এরপর শুরু হয় তাকে উদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা। কাদামাটি, কাঠ ও পাথর সরিয়ে অবশেষে উদ্ধার করা হয় মণীষাকে।


উদ্ধারকারীরা জানান, শিশুটির শরীরের প্রায় পুরোটা কাদার নিচে চাপা পড়েছিল। তবে একটি কাঠের কাঠামো তাঁর মাথার ওপর পড়ে থাকায় মুখের অংশে সামান্য ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছিল। সেই ফাঁক দিয়েই সম্ভবত তিনি শ্বাস নিতে পেরেছেন এবং তাঁর কান্নার শব্দ বাইরে পৌঁছেছে।


উদ্ধারের পর মণীষাকে প্রথমে টিমুরে সীমান্ত নিরাপত্তা চৌকিতে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে উষ্ণ রাখা ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে নেপাল সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়।


চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুটির মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে স্থানান্তর করা হয়।


বেঁচে আছেন মা-বাবাও


মণীষাকে উদ্ধারের পর আসে আরও স্বস্তির খবর। প্রথমে তাঁর মা-বাবাকে নিখোঁজ মনে করা হলেও পরে জানা যায়, তাঁরাও জীবিত আছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন।


বন্যার প্রবল স্রোতে তাঁরা একটি দেয়ালের দিকে ছিটকে পড়েছিলেন। সেই আঘাতই শেষ পর্যন্ত তাঁদের প্রাণ বাঁচিয়ে দেয় বলে জানা গেছে।


প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মেয়েকে জীবিত উদ্ধারের খবর যখন তাঁর মা-বাবাকে জানানো হয়, তখন ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেও সৃষ্টি হয় এক বিরল মানবিক মুহূর্ত।


এখনও নিখোঁজ হাজারো মানুষ


মণীষার জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নেপালে চলমান উদ্ধার অভিযানে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কারণ এখনও ধ্বংসস্তূপ, নদীর তলদেশ, ভেঙে পড়া ভবন ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে বহু মানুষের সন্ধান চলছে।


৩১ আগস্ট সকাল পর্যন্ত নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, বন্যা ও পরবর্তী বিপর্যয়ে ৯০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও ৪ হাজার ২৪৭ জন নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৪৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।


উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে নেপাল পুলিশ, নেপাল সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর মোট ২০ হাজার ৮৯৯ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন রয়েছেন।


নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩ হাজার ৩৪৪ জন নেপালি নাগরিক ও ২৫২ জন বিদেশিকে উদ্ধার করেছে। এ পর্যন্ত ৪১১টি হেলিকপ্টার অভিযান পরিচালিত হয়েছে।


জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে নতুন শঙ্কা


বিপর্যয়ের পর সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোতে। সরকারি হিসাবে নিখোঁজদের মধ্যে ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মী রয়েছেন।


বহু সুড়ঙ্গ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে বন্ধ হয়ে গেছে। নেপাল সেনাবাহিনী ও প্রযুক্তিগত দলগুলো এসব সুড়ঙ্গে পৌঁছে আটকে পড়াদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রসুয়া ও নুওয়াকোটের একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আটকে পড়া কর্মীদের সন্ধানে অভিযান চলছে। কয়েকটি প্রকল্পে শতাধিক মানুষের নিখোঁজ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।


এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কারও অপেক্ষা বাবা-মায়ের জন্য, কারও সন্তানের জন্য, আবার কেউ খুঁজছেন স্বামী, স্ত্রী, ভাই কিংবা বন্ধুকে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর প্রতিটি মুহূর্ত তাই শুধু একটি উদ্ধার অভিযান নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য পরিবারের বেঁচে থাকার আশা।


কখনও সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে মিলছে নিথর দেহ। আবার কখনও মণীষার মতো ভেসে আসছে জীবনের ক্ষীণতম শব্দ।


প্রায় ৬০ ঘণ্টা কাদার নিচে থেকেও মণীষার ফিরে আসা তাই শুধু একটি শিশুর বেঁচে থাকার গল্প নয়; এটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেও মানুষের আশা হারিয়ে না ফেলার এক শক্তিশালী প্রতীক।