
ছবি: সংগৃহীত
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ও চালকবিহীন ‘স্মার্ট’ সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এই ডুবোযানটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে এটিকে যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইরান কর্তৃক জব্দকৃত চালকবিহীন সাবমেরিনটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজ -এর তৈরি ‘ডাইভ-এলডি’ মডেলের একটি স্বায়ত্তশাসিত ডুবোযান।
১৯ ফুট (৫.৮ মিটার) দীর্ঘ এই সাবমেরিন ড্রোনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ লাখ মার্কিন ডলার। আইআরজিসির তথ্যমতে, এই স্মার্ট সাবমেরিনটি পানির নিচে অনুসন্ধান, নজরদারি, সমুদ্রের তলদেশের ম্যাপিং, মাইন শনাক্তকরণ এবং সাবমেরিন কেবল ও পাইপলাইন পরিদর্শনের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এটি ২০২৫ সালে মার্কিন নৌবহরে যুক্ত হয়েছিল বলে তেহরান দাবি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন -এর পক্ষ থেকে ইরানের এই অভিযান বা ফাঁদে ফেলে ড্রোন জব্দের দাবিটিকে গুরুত্বহীন করা হয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র জানান, আঞ্চলিক জলসীমায় নিয়মিত জরিপ চালানোর সময় প্রায় একদিন আগে যানটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয় এবং এটি বিকল হয়ে পড়ে।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এটি একটি পুরোনো মডেলের ড্রোন ছিল। এতে কোনো সংবেদনশীল বা গোপন শ্রেণির সোনার (Sonar) কিংবা রাডার সরঞ্জাম ছিল না, যার ফলে কোনো গোপন তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি নেই।
ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল তাদের একটি যান হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তারা জানায়, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার জন্যই এই ডুবোযানগুলো তৈরি করা হয়, তাই মিশন চলাকালীন এমন ড্রোন নিখোঁজ বা নষ্ট হওয়াকে তারা স্বাভাবিক ঝুঁকির অংশ হিসেবেই দেখে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের এই অবরোধ এবং সাবমেরিন ড্রোন আটকের ঘটনাটি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।