
ছবি: সংগৃহীত
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে দুইজন সাবেক ফুটবল ফেডারেশন সভাপতিকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। নিষিদ্ধ হওয়া এই দুই সাবেক সভাপতি হলেন মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক প্রধান বাসাম আদিল জালিল এবং মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রধান ভিনসেন্ট ক্যাসেল। আজীবন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তাঁদের উভয়কেই ১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ কোটিরও বেশি টাকা) করে জরিমানা করা হয়েছে।
বাসাম আদিল জালিল (সাবেক সভাপতি, মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশন)
করোনাভাইরাস মহামারির সময় সদস্য দেশগুলোর স্থানীয় ফুটবল ক্লাবগুলোর সহায়তার জন্য ফিফার দেওয়া কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিল (COVID-19 Relief Plan) ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন।
ফিফার ত্রাণ তহবিল থেকে ১২ লাখ মার্কিন ডলার আত্মসাৎ করে নিজের নামে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন।
এই আর্থিক জালিয়াতির মামলায় মালদ্বীপের একটি আদালত চলতি বছরেই তাঁকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে।
মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আগিলকেও ফিফার এই জালিয়াতি লুকাতে সাহায্য করার অপরাধে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ এবং ১ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে।
ভিনসেন্ট ক্যাসেল (সাবেক সভাপতি, মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন)
দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকা এই ফুটবল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পদের অপব্যবহার, স্বার্থের সংঘাত এবং ফিফা ও ফেডারেশনের নিজস্ব তহবিলের পদ্ধতিগত অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
গত এপ্রিলে মন্টসেরাটের একটি আদালতে কর ফাঁকির মামলায় তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন। এর আগে ২০১১ সালেও তৎকালীন ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারের বিরুদ্ধে মোহাম্মদ বিন হাম্মামের নির্বাচনী প্রচারণায় ক্যারিবিয়ান কর্মকর্তাদের নগদ ৪০ হাজার ডলার ঘুষ দেওয়ার একটি কুখ্যাত কেলেঙ্কারিতে তাঁর নাম জড়িয়েছিল।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০১৭ সালের ফিফা কংগ্রেসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, যারা ফুটবলকে অপব্যবহার করে নিজেদের পকেট ভারী করতে চায়, তাদের ফুটবলে কোনো স্থান নেই। তারই ধারাবাহিকতায় ফুটবলে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ফেরাতে ফিফা এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।