News update
  • বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন     |     
  • ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক     |     
  • নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান     |     
  • শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ     |     
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও'র সাথে বৈঠক     |     
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক 2026-09-18, 10:47pm

গৃহবন্দি থাকবেন নাজিব রাজাক, শর্ত ৫ কোটি রিঙ্গিত জরিমানা

najib-razak-91678d50f1ef0939b6fadba640c89e661789750069.jpg


মালয়েশিয়ার কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে বাকি সাজা গৃহবন্দি অবস্থায় কাটানোর অনুমতি দিয়েছেন দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম। তবে এ সুবিধা পেতে তাকে ৫ কোটি রিঙ্গিত জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের আইনবিষয়ক বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাজিব রাজাককে শর্তসাপেক্ষে রাজকীয় ক্ষমা দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় তিনি ২০২৮ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত গৃহবন্দি থেকে তার বাকি সাজা ভোগ করতে পারবেন। নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করলে এই ক্ষমার আদেশ বাতিল হয়ে তাকে ফের কারাগারে পাঠানো হবে।

নাজিব রাজাক ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ক্ষমতায় থাকাকালে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদ বা ১এমডিবি-সংক্রান্ত আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। বিশেষ করে ১এমডিবির সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসআরসি ইন্টারন্যাশনালের অর্থ আত্মসাতের মামলায় তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিশ্বাসভঙ্গ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

২০২০ সালে নাজিবকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২২ সালের আগস্টে দেশটির ফেডারেল কোর্ট তার চূড়ান্ত আপিল খারিজ করার পর তিনি কারাভোগ শুরু করেন। পরে ২০২৪ সালে তৎকালীন ক্ষমা বোর্ড তার সাজা কমিয়ে ছয় বছর এবং জরিমানা ২১ কোটি রিঙ্গিত থেকে কমিয়ে ৫ কোটি রিঙ্গিত করে। ফলে তার সাজা শেষ হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল ২০২৮ সালের ২৩ আগস্ট।

শুক্রবার ফেডারেল টেরিটরিজের ক্ষমা বোর্ডের ৬৪তম বৈঠকে নাজিবের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাজা সুলতান ইব্রাহিম। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের আইনবিষয়ক বিভাগ জানিয়েছে, নাজিবকে গৃহবন্দি অবস্থায় বাকি সাজা ভোগের অনুমতি দেওয়া হলেও তাকে রাজকীয় ক্ষমার সব শর্ত কঠোরভাবে মানতে হবে।

নাজিব রাজাক শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে অন্যায় করার কথা অস্বীকার করে আসছেন। তার মামলাগুলো ১এমডিবি কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ।

রয়টার্স জানিয়েছে, ১এমডিবি কেলেঙ্কারি মালয়েশিয়ার অন্যতম আলোচিত আর্থিক দুর্নীতির ঘটনায় পরিণত হয়। নাজিবের বিরুদ্ধে এ-সংক্রান্ত আরও একটি পৃথক মামলায় ২০২৫ সালে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যার বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন।

সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, গৃহবন্দি থাকার অনুমতি নিঃশর্ত নয়। নাজিবকে নির্ধারিত সব শর্ত মেনে চলতে হবে এবং ৫ কোটি রিঙ্গিত জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। শর্ত লঙ্ঘন করলে শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা বাতিল হয়ে তাকে অবশিষ্ট সাজা কারাগারেই ভোগ করতে হবে।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৮ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত নাজিবের সাজা গৃহবন্দি অবস্থায় কাটানোর সুযোগ তৈরি হলো। তবে তার বিরুদ্ধে চলমান বা পৃথক মামলাগুলোর ওপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট মামলার আইনি অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।