
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিবিরোধী সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) রাঙামাটি জেলা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে বলে দাবি করেছেন রাঙামাটি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক।
একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যা ও বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে ইউপিডিএফের দৃশ্যমান ত্রাণ ও মানবিক কার্যক্রম না থাকার দাবি তুলে সংগঠনটির কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাঙামাটি মারী স্টেডিয়ামে ‘রাঙামাটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সম্প্রতি পাহাড়ে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ইউপিডিএফের মুখপাত্র মাইকেল চাকমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, ইউপিডিএফ পাহাড়ের মানুষের অধিকার আদায়ের কথা বললেও সংগঠনটির বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো ত্রাণ কার্যক্রম দেখা যায়নি।
এ অবস্থায় ইউপিডিএফ আসলে কার স্বার্থে আন্দোলন করছে এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক ইউপিডিএফকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, চাঁদাবাজিই সংগঠনটির মূল কর্মকাণ্ড। এ বিষয়ে পাহাড়ের সাধারণ মানুষকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ইউপিডিএফের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, ‘জনগণকে বিরক্ত করবেন না। সেনাবাহিনীকে আপনাদের প্রতিহত করতে হবে না। পাহাড়ের জনগণই আপনাদের প্রতিহত করা শুরু করেছে এবং তারাই আপনাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।’
উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরলেন রিজিয়ন কমান্ডার
সেনাবাহিনীর কার্যক্রম শুধু নিরাপত্তা ও খেলাধুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের কল্যাণেও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা ও বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনার পাশাপাশি প্যারামেডিক প্রশিক্ষণ, নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ, চোখের ছানি অপারেশন এবং মেশিন মেরামত ও মেকানিক্যাল ফিটিংয়ের মতো কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও বিভিন্ন দুর্যোগের সময় পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারসহ নানা সহযোগিতামূলক কার্যক্রমে সেনাবাহিনী মানুষের পাশে ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, ‘সেনাবাহিনী দেশকে ভালোবাসে, অঞ্চলকে ভালোবাসে এবং অঞ্চলের মানুষকে ভালোবাসে।’
খেলাধুলায় তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান
অনুষ্ঠানে তরুণ সমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার গুরুত্বও তুলে ধরেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক। তিনি বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, দলীয় সমন্বয় ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রাঙামাটি থেকে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় উঠে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড় ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।