
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বসতঘরে ঢুকে স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বেঁধে রেখে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘরে থাকা নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রাজিব (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিকভাবে প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের কাউকে কিছু না বলার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় পাঁচ যুবক ওই সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে যায়। এ সময় খাবার পানি দেওয়ার কথা বলে গৃহবধূর স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে ঘর থেকে বাইরে ডেকে আনা হয়। ছেলে ঘর থেকে বের হওয়ার পর তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বেঁধে ফেলা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে বসতঘরে ঢুকে গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন শরিফ ও আরিফ। তারা সম্পর্কে দুই ভাই। এ সময় রাজিব নামে আরেক যুবক মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ধর্ষণের পর অভিযুক্তরা ঘরে থাকা নগদ পাঁচ লাখ টাকা, একটি সোনার চেইন ও দুই জোড়া কানের দুল নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযুক্তরা চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। পরে গফরগাঁও থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে চরকালীবাড়ি গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চারজন পালিয়ে গেলেও রাজিবকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, ঘটনার ভিডিও ধারণ করা মুঠোফোনটি রাজিব পানিতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ওই স্থান থেকে মুঠোফোনটি উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী নারীর এক স্বজন বলেন, যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে গফরগাঁও থানায় অভিযোগ করেছেন।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী গৃহবধূকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।