News update
  • কিশোর গ্যাং দমনে কুমিল্লায় সাঁড়াশি অভিযান: আটক ৬২৪     |     
  • এল নিনোর প্রভাবে ছয় মাসে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা     |     
  • ভারতে স্লিপার বাসে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৯     |     
  • বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন     |     
  • ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক     |     
খেলা ডেস্ক খেলাধুলা 2026-09-08, 8:57am

পিসিবির ‘আসল পরিকল্পনা’ ফাঁস করলেন শোয়েব আখতার

soheb-5c895858643159250b26450293a16ae01788836273.jpg


ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তান দলে ব্যাপক রদবদল নিয়ে যখন সমালোচনা তুঙ্গে, তখন এর ভিন্ন ব্যাখ্যা দিলেন দেশটির সাবেক তারকা পেসার শোয়েব আখতার। তাঁর মতে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং জাতীয় দলকে নতুন করে সাজানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।


প্রথম দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ খোয়ানোর পর তৃতীয় টেস্টের আগে পাকিস্তান স্কোয়াড থেকে সাত ক্রিকেটারকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের জায়গায় বেশ কয়েকজন নতুন ও অভিজ্ঞতাহীন ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া হয়। একই সময়ে কোচিং স্টাফেও পরিবর্তন আনে পিসিবি। এ নিয়ে সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকদের সমালোচনার মুখে পড়ে বোর্ড।


তবে শোয়েব আখতার মনে করেন, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য শুধু ইংল্যান্ড সিরিজ নয়। তাঁর দাবি, পুরোনো দলকে সরিয়ে আগামী দিনের জন্য তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে নতুন পাকিস্তান দল গড়ে তুলতে চায় পিসিবি।


পুরোনোদের ওপর আস্থা হারিয়েছে বোর্ড


শোয়েবের মতে, বর্তমান পাকিস্তান দলের ওপর পিসিবির আস্থা অনেকটাই কমে গেছে। তাই ধাপে ধাপে পুরোনো ক্রিকেটারদের সরিয়ে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার পথেই হাঁটছে বোর্ড।


শোয়েব বলেন, পিসিবি বর্তমান খেলোয়াড়দের নিয়ে হতাশ। তাদের কাছ থেকে আর বড় কোনো প্রত্যাশা নেই বোর্ডের। সে কারণেই তরুণ ও নতুন ক্রিকেটারদের নিয়ে ভবিষ্যতের দল গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


তাঁর মতে, যারা দীর্ঘমেয়াদে পাকিস্তানের হয়ে খেলতে আগ্রহী, তাদের প্রস্তুত করাই এখন বোর্ডের মূল লক্ষ্য। অর্থাৎ চলমান সিরিজের ফলের চেয়ে ভবিষ্যতের দল তৈরিতেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


তিন পেসারকে ধরে রাখার পক্ষে শোয়েব


ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্যেও পাকিস্তানের তিন পেসারকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রাখার পক্ষে শোয়েব আখতার। তাঁরা হলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ ও হারিস রউফ।


শোয়েবের ভাষায়, এই তিন ক্রিকেটারের সামনে এখনো দীর্ঘ ক্যারিয়ার পড়ে আছে। তাই দল পুনর্গঠনের সময় তাঁদের ক্যারিয়ার যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।


তবে তাঁর এই তালিকায় নেই পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও তারকা ব্যাটার বাবর আজম। বিষয়টি পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


‘নতুনদের কাছ থেকে এখন কিছুই চায় না পিসিবি’


দলের এমন ব্যাপক পরিবর্তনের কারণ জানতে পিসিবির এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন শোয়েব। নতুন করে দলে আসা ক্রিকেটারদের কাছ থেকে বোর্ড কী প্রত্যাশা করছে—এমন প্রশ্ন করেছিলেন তিনি।


শোয়েবের দাবি, ওই কর্মকর্তার উত্তর ছিল—‘কিছুই না।’


অর্থাৎ নতুন ক্রিকেটারদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক সাফল্য কিংবা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের ফল বদলে দেওয়ার প্রত্যাশা করছে না পিসিবি। বরং তাঁদের বড় মঞ্চের জন্য ধীরে ধীরে তৈরি করতে চায় বোর্ড।


শোয়েবের ভাষ্য অনুযায়ী, পিসিবির পরিকল্পনা মূলত পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের ঘিরে। দীর্ঘমেয়াদে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল গড়াই এর উদ্দেশ্য।


‘ভেন্টিলেটরে পাকিস্তান ক্রিকেট’


পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতি বোঝাতে পিসিবির ওই কর্মকর্তা ‘ভেন্টিলেটর’-এর উদাহরণ দিয়েছেন বলেও জানান শোয়েব।


তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ক্রিকেট এখন এমন এক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখান থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। নতুন পরিকল্পনার সুফল পেতে অন্তত এক থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে।


শোয়েবের বক্তব্যে উঠে এসেছে, পিসিবিও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তাই সাময়িক ব্যর্থতার ঝুঁকি নিয়েই ভবিষ্যতের জন্য দল গড়ার কাজ এগিয়ে নিতে চায় বোর্ড।


ইংল্যান্ড সিরিজের ব্যর্থতাও দেখছেন শোয়েব


ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তানের ব্যর্থতা নিয়েও কথা বলেছেন শোয়েব। তাঁর মতে, দলটির মধ্যে প্রয়োজনীয় লড়াইয়ের মানসিকতার ঘাটতি ছিল।


প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হারে পাকিস্তান। এরপরই তৃতীয় টেস্টের আগে সাত ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে পিসিবি।


শোয়েবের মতে, বাইরে থেকে এই সিদ্ধান্ত যতটা আকস্মিক মনে হচ্ছে, বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেটকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা। বর্তমান দলের ব্যর্থতাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই রদবদল শেষ পর্যন্ত আগামী কয়েক বছরের পাকিস্তান ক্রিকেটের কাঠামো বদলে দিতে পারে।


তবে সেই পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তার উত্তর পেতে এখন অপেক্ষা করতে হবে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মাঠে নামা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণ করার জন্য।