News update
  • শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ     |     
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও'র সাথে বৈঠক     |     
  • ইউপি নির্বাচনের জন্য ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত     |     
  • বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ     |     
  • চালকের আসনে কিশোর, আসামির তালিকায় অন্যজন     |     
নিজস্ব প্রতিবেদক রাজধানী ও শহরতলী 2026-09-14, 6:46am

৪৫ হাজার কোটি টাকায় গাবতলী–দাশেরকান্দি এমআরটি

একনেকে উঠছে ১৬ সেপ্টেম্বর, যুক্ত হবে আরও দুই এমআরটি লাইনের সঙ্গে

metro-rail-7a06f3f47595d213de34c391dcc08a831789346764.jpg


রাজধানীর পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলকে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত এই রুট চালু হলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকার মধ্যে দ্রুত ও আধুনিক গণপরিবহন সংযোগ তৈরি হবে।


‘ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫): সাউদার্ন রুট’ শীর্ষক প্রকল্পটি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে। বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় চলতি অর্থবছরের তৃতীয় একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন।


পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওয়াহাবও জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি পরবর্তী একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে।


যেসব এলাকার সঙ্গে যুক্ত হবে


প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত এমআরটি করিডোর তৈরি হবে। এর পথে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাব নগর, আফতাব নগর সেন্টার, আফতাব নগর ইস্ট ও নাসিরাবাদ এলাকার সঙ্গে গণপরিবহন সংযোগ স্থাপিত হবে।


প্রস্তাবিত রুটটি এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুট এবং এমআরটি লাইন-১-এর সঙ্গে সংযুক্ত হবে। ফলে যাত্রীরা বিভিন্ন এমআরটি করিডোরের মধ্যে সহজে স্থানান্তর করতে পারবেন। এতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মধ্যে সমন্বিত ও দ্রুত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।


ব্যয় ও অর্থায়ন


প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়া হবে।


২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।


থাকছে আধুনিক অবকাঠামো


প্রকল্পের আওতায় মূল এমআরটি লাইন ও স্টেশন নির্মাণের পাশাপাশি ডিপোর সিভিল ও ভবন নির্মাণ করা হবে। থাকবে বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা, রেলওয়ে ব্যবস্থা, রোলিং স্টক এবং ডিপো সরঞ্জাম।


এ ছাড়া ইউটিলিটি স্থানান্তর, পরামর্শক সেবা, ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।


প্রকল্পের সবচেয়ে বড় অংশ, ১৭ হাজার ৭৩৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে মূল লাইন, স্টেশন এবং ডিপোর সিভিল ও ভবন নির্মাণে। বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক কাজ এবং রেলওয়ে ব্যবস্থায় ব্যয় হবে ১৩ হাজার ২৫৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। রোলিং স্টক ও ডিপো সরঞ্জামের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৮২১ কোটি ২৪ লাখ টাকা।


ভূমি অধিগ্রহণ, পুনঃঅধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৭৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।


কয়েক দফা কমেছে প্রকল্প ব্যয়


প্রকল্পটি অনুমোদনের আগে কয়েক দফা পর্যালোচনা করা হয়েছে। শুরুতে ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছিল।


২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল পিইসি সভায় প্রস্তাবটি পর্যালোচনার পর ব্যয় কমিয়ে ৪৭ হাজার ৭২১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আরেকটি পিইসি সভায় সংশোধিত প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়।


এরপর প্রকল্পটি পুনর্গঠন করে ব্যয় ধরা হয় ৪৭ হাজার ৬৪৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৬ জুলাইয়ের পর্যালোচনা সভার পর আরও ২ হাজার ১৪১ কোটি ৪ লাখ টাকা কমিয়ে বর্তমান ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।


যানজট কমানোর প্রত্যাশা


এডিবির কারিগরি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ২০২২ সালের অক্টোবরে শেষ হয়। সমীক্ষায় প্রকল্পটিকে কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে বাস্তবসম্মত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম করিডোরের যোগাযোগ সহজ হবে। বিভিন্ন এমআরটি লাইনের আন্তঃসংযোগের কারণে যাত্রীরা কম সময়ে এক করিডোর থেকে অন্য করিডোরে যেতে পারবেন। এতে গণপরিবহনে মানুষের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি রাজধানীর যানজট নিরসনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে প্রকল্পটির নেট প্রেজেন্ট ভ্যালু (এনপিভি) ৩৫ হাজার ১৬১ কোটি টাকা, বেনিফিট-কস্ট রেশিও (বিসিআর) ২ দশমিক ৪১ এবং ইন্টারনাল রেট অব রিটার্ন (আইআরআর) ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ পাওয়া গেছে।


পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদনের জন্য উপযুক্ত। সূত্র: বাসস