News update
  • শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ     |     
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও'র সাথে বৈঠক     |     
  • ইউপি নির্বাচনের জন্য ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত     |     
  • বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ     |     
  • চালকের আসনে কিশোর, আসামির তালিকায় অন্যজন     |     
নিজস্ব প্রতিবেদক রাজধানী ও শহরতলী 2026-09-14, 9:38am

খসড়া সাইবার সুরক্ষা আইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের ঝুঁকি: টিআইবি

tib-060b5f3c5859a1e1d6e9323ff6eeb1431789357136.jpg


খসড়া সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর কয়েকটি বিধান জনগণের মৌলিক মানবাধিকার, বাক্-স্বাধীনতা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামত এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে খসড়াটি পুনর্বিন্যাস ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।


শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, খসড়া সাইবার সুরক্ষা আইনে সাইবার অপরাধ, সাইবার সুরক্ষা এবং জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার এই তিনটি জটিল বিষয়কে একই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু এতে কোনো ক্ষেত্রেই যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্ন বিধানের অপব্যাখ্যা ও অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা রয়েছে।


তিনি বলেন, ‘সাইবার অপরাধ ও সাইবার সুরক্ষার মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রকে একাকার করার পাশাপাশি সাইবার জগতে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ এসব বিষয় সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এ ধরনের আইনের আওতার বাইরে। এটি বৈশ্বিক উত্তম চর্চারও পরিপন্থী।’


টিআইবি বলছে, খসড়া আইনটি অনুমোদিত হলে দেশের সাইবার পরিসর অবারিত নজরদারি, জবাবদিহিহীনতা ও নিপীড়নের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।


ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গুজব, অপতথ্য, হেয়প্রতিপন্ন, মানহানিকর, রাষ্ট্রের জন্য অবমাননাকরসহ বেশ কিছু ধারণাকে খসড়া আইনে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যা ইচ্ছাকৃত অপব্যাখ্যার মাধ্যমে লক্ষ্যভিত্তিক অপব্যবহার এবং বিশেষ করে বাক্-স্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’


তিনি আরও বলেন, ‘যৌন হয়রানি ও সেক্সটর্শন ইত্যাদি শব্দবন্ধও অপেশাদার ও অসম্পূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত অপরাধ আড়াল হওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্তের সুরক্ষা এবং ভুক্তভোগীর অধিকার হরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’


বিবৃতিতে ধারা ৪৬(২) নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, ওই ধারায় অ-জামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে ধারা ২৩-এর উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার পাশাপাশি ‘বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’ এবং ‘বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্র বা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সুবিধার্থে’এ ধরনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এসব বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার ঘাটতি থাকায় এবং এর প্রায়োগিক প্রভাব অনেকাংশে ক্ষমতাসীনদের বিবেচনার ওপর নির্ভর করায় অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।


ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের বিধানের অপব্যবহার ভিন্নমত ও বাক্-স্বাধীনতাকে ব্যাপক হুমকির মুখে ফেলতে পারে।


সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল নিয়ে প্রশ্ন


খসড়া আইনে প্রস্তাবিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের কাঠামো নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, প্রধানমন্ত্রীসহ ২৮ সদস্যের সমন্বয়ে কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বেসরকারি পর্যায়ের তথ্যপ্রযুক্তি বা মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে মাত্র দুজনকে অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয়েছে। ওই দুজনও সরকার কর্তৃক মনোনীত হওয়ার কথা রয়েছে।


ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ফলে সুরক্ষা কাউন্সিল সরকারের সরাসরি কর্তৃত্বাধীন অবস্থায় কোনো ধরনের জবাবদিহি ছাড়াই আইনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা ও যথেচ্ছ প্রয়োগের ক্ষমতা পেতে পারে। তাই এ ধরনের ধারাসমূহ ঢেলে সাজিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে স্বাধীন ও দলনিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কাউন্সিল গঠনের আহ্বান জানাই।’


তিনি আরও বলেন, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের পর বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারের পরিবর্তে কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত করা উচিত।


দায়মুক্তির বিধান নিয়েও আপত্তি


খসড়া আইনে কাউন্সিলের সদস্যসহ আইনের অধীনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘সরল বিশ্বাসে’ করা কর্মকাণ্ডের জন্য ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা থেকে দায়মুক্তির যে বিধান রাখা হয়েছে, সেটিও পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে টিআইবি।


ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কাউন্সিল সদস্যসহ এই আইনের অধীনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে “সরল বিশ্বাসে” তাদের কৃত কর্মকাণ্ডের জন্য যে কোনো ধরনের ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা থেকে যেভাবে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা “আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান”—এই মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’


টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সার্বিক বিবেচনায় খসড়া আইনটি প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পুনর্বিন্যাস ছাড়া অনুমোদিত হলে বাংলাদেশের সাইবার পরিসর অবারিত নজরদারি, জবাবদিহিহীনতা ও নিপীড়নের ক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে। এতে জনগণের সাইবার জগতে প্রবেশাধিকার সরকারের ইচ্ছানির্ভরভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়ার পাশাপাশি ভিন্নমত দমন ও মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


ইশতেহারের অঙ্গীকার স্মরণ করিয়ে টিআইবির দাবি


ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সব নাগরিকের সাইবার সুরক্ষার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, সেটিও বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে টিআইবি।


সংস্থাটি বলেছে, ওই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করে এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজনের মাধ্যমে খসড়া সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ ঢেলে সাজাতে হবে।


টিআইবি আশা করছে, চূড়ান্ত আইন প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে এবং নাগরিকের সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।