
পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বড় পরিবর্তন এনেছে হোয়াটসঅ্যাপ। অ্যান্ড্রয়েডের পুরোনো কয়েকটি সংস্করণে এখন আর হোয়াটসঅ্যাপের সেবা পাওয়া যাবে না। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ ও ৫.১ সংস্করণে চলা ডিভাইসের জন্য হোয়াটসঅ্যাপের আনুষ্ঠানিক সাপোর্ট বন্ধ হয়ে গেছে।
এর ফলে যেসব স্মার্টফোনে অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ বা ৫.১ রয়েছে এবং যেগুলোকে পরবর্তী সংস্করণে হালনাগাদ করার সুযোগ নেই, সেসব ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।
চলতি বছরের এপ্রিলেই পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণে সাপোর্ট বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল হোয়াটসঅ্যাপ। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ ও ৫.১ সংস্করণ সাপোর্ট তালিকার বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ (মার্শম্যালো) বা এর পরবর্তী সংস্করণ।
কোন ফোনে সমস্যা হবে
ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ বা ৫.১ ইনস্টল করা থাকলেই যে সঙ্গে সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ অচল হয়ে যাবে—বিষয়টি এমন নয়। মূল বিষয় হলো, ওই ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ বা পরবর্তী সংস্করণে হালনাগাদ করা যায় কি না।
যদি ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নতুন সফটওয়্যার আপডেট পাওয়া যায় এবং সেটি অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ বা পরবর্তী সংস্করণে উন্নীত করা সম্ভব হয়, তাহলে আপডেট করার পর হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া যাবে। তবে ডিভাইসটির জন্য আর কোনো আপডেট না থাকলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের জন্য নতুন ডিভাইসে যেতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত পুরোনো স্মার্টফোনগুলোতেই এই পরিবর্তনের প্রভাব বেশি পড়বে। বিশেষ করে যেসব ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে সফটওয়্যার আপডেট দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, সেগুলোর ব্যবহারকারীদের সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা বেশি।
ব্যবহারকারীরা কী করবেন
ফোনটি হোয়াটসঅ্যাপের নতুন সাপোর্ট নীতির আওতায় আছে কি না, তা জানতে প্রথমে ডিভাইসের অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ পরীক্ষা করতে হবে। সাধারণত ফোনের Settings থেকে About phone বা Software information বিভাগে গিয়ে অ্যান্ড্রয়েডের সংস্করণ দেখা যায়।
যদি সেখানে অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ বা ৫.১ দেখা যায়, তাহলে ফোনের জন্য কোনো সফটওয়্যার আপডেট এসেছে কি না, তা পরীক্ষা করতে হবে।
আপডেট পাওয়া গেলে সেটি ইনস্টল করে ফোনকে অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ বা পরবর্তী সংস্করণে নেওয়া সম্ভব কি না দেখতে হবে। ফোনটি নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ সমর্থন করলে আপডেটের পর হোয়াটসঅ্যাপ আবার ব্যবহার করা যেতে পারে।
অন্যদিকে, ডিভাইসটি যদি অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ বা ৫.১-এ স্থায়ীভাবে আটকে থাকে এবং নতুন সংস্করণে যাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকে, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের জন্য অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ বা পরবর্তী সংস্করণ সমর্থন করে এমন নতুন ফোন ব্যবহার করতে হবে।
এই পরিবর্তন শুধু ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে নয়; হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
কেন পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড বাদ দিচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ
হোয়াটসঅ্যাপ নিয়মিত নতুন ফিচার, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা যুক্ত করছে। নতুন এসব সুবিধা কার্যকরভাবে চালু রাখতে হলে আধুনিক অপারেটিং সিস্টেমের ওপর নির্ভরতা বাড়ে।
একই সঙ্গে বহু বছরের পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ এবং নতুন সংস্করণে একটি অ্যাপের সব ফিচার সমানভাবে কার্যকর রাখা প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। পুরোনো অপারেটিং সিস্টেমের সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন ফিচার ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কিছু সুবিধাও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়েবিটাইনফোরের তথ্য অনুযায়ী, এসব কারণেই পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণের সাপোর্ট ধীরে ধীরে সরিয়ে আধুনিক সংস্করণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনো বহু মানুষ পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করেন। ভারত, ব্রাজিল, পাকিস্তান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে এমন ডিভাইসের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে বেশি। এসব ফোনের অনেকগুলোরই নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণে যাওয়ার সুযোগ নেই।
ফলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার অব্যাহত রাখতে এসব ডিভাইসের মালিকদের কেউ সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারবেন, আবার কারও ক্ষেত্রে নতুন স্মার্টফোন কেনাই হতে পারে একমাত্র উপায়।
হোয়াটসঅ্যাপের এমন সিদ্ধান্ত একদিকে পুরোনো ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অসুবিধা তৈরি করলেও অন্যদিকে অ্যাপটির নিরাপত্তা, নতুন ফিচার এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে।