
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ন্যায়সংগত জলবায়ু ব্যবস্থা, অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই সামান্য। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। ফলে অন্যের সৃষ্ট সংকটের পরিণতি বাংলাদেশকে বহন করতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাস্তবতায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে দেশের টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায়, বিশেষ করে কপ-৩১কে সামনে রেখে জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে আরও জোরালো বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
ভাষণে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বন্যা ও খরার ঝুঁকি কমাতে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সুন্দরবনে মিঠা পানির প্রবাহ বাড়ানো এবং বড় জলাধারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
পানি সংরক্ষণ ও দূষণ রোধে দেশের অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ জোরদারের পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ‘ওয়াটার কনভেনশন’ স্বাক্ষর করেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।