News update
  • শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ     |     
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও'র সাথে বৈঠক     |     
  • ইউপি নির্বাচনের জন্য ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত     |     
  • বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ     |     
  • চালকের আসনে কিশোর, আসামির তালিকায় অন্যজন     |     
আতাউর রহমান (সম্পাদক, দৈনিক বঙ্গলোক; সাবেক কোষাধ্যক্ষ, বিএফইউজে; সভাপতি, গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সাংবাদিক অধিকার ফোরাম) প্রবাস বাংলা 2026-09-10, 1:57pm

প্রবাসের একাকীত্ব ও এক সাংবাদিকের অন্তর্দহন: ওপারে মা, এপারে বাবা এবং এক পৃথিবীর প্রার্থনা

200-3644a684f98ea8fe223c713b77189a771789027048.png

বাবা ও মা। ফাইল ছবি


জীবন কখনো কখনো আমাদের এমন এক চৌরাস্তায় এনে দাঁড় করায়, যেখানে পেশাগত সাফল্য আর ব্যক্তিগত শূন্যতা একাকার হয়ে যায়। আজ থেকে ঠিক দশটি বছর আগে আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে সবচেয়ে বড় আশ্রয় আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা বানেছা খাতুন। 


মাকে চিরদিনের জন্য হারানোর সেই ক্ষত আজ এক দশকেও শুকায়নি বরং সময়ের সাথে সাথে তা এক গভীর ও নীরব বেদনায় রূপ নিয়েছে।


মায়ের চলে যাওয়ার পর আমার বাবা ওসমান গণি এক নিদারুণ একাকীত্বের মুখোমুখি হয়েছেন। যে মানুষটি সারা জীবন পরিবারকে পরম মমতায় আগলে রেখেছেন, আজ জীবনের এই অপরাহ্নে এসে তিনি বড্ড একা। অনেক কষ্ট আর নীরব সংগ্রাম নিয়ে তিনি দেশে তাঁর এই একাকী জীবন যাপন করছেন। 


বাবার এই কষ্ট দূর থেকে দেখাটা যে একজন সন্তানের জন্য কতটা যন্ত্রণাদায়ক, তা এখন আমি প্রতি মুহূর্তে অনুভব করছি। কারণ, গত একটি বছর ধরে আমি প্রবাসে একা একা জীবন পার করছি। 


প্রবাসের এই যান্ত্রিক জীবনে যখনই ক্লান্ত হয়ে পড়ি, তখনই মায়ের সেই চিরচেনা মুখ আর বাবার মলিন ছবি চোখে ভেসে ওঠে।বিশেষ করে, যখন প্রবাসের অচেনা বিভুঁইয়ে পথ চলতে যাই, তখন হঠাৎ কোনো অচেনা বয়োবৃদ্ধ নারীর অবয়ব, তাঁর হাঁটার ধরণ কিংবা স্নেহের চাহনি দেখে থমকে দাঁড়াতে হয়। মনে হয়, এই নারী বুঝি অবিকল আমার মায়ের মতোই, যেন মায়েরই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। 


সেই মুহূর্তে মায়ের জন্য ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে, চোখের কোণ ভিজে যায় পরম মমতায়। কিন্তু এই একাকীত্ব ও কষ্টের মাঝেও আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হলো আমার মায়ের রেখে যাওয়া আদর্শ এবং সাংবাদিকতার লড়াকু অধ্যায়। 


পেশাগত জীবনে আমি সাংবাদিকদের অধিকার আদায়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আজীবন এক আপসহীন লড়াই লড়েছি। আর একজন নির্ভীক সাংবাদিক নেতা হিসেবে আমার এই দীর্ঘ পথচলা এবং ‘দৈনিক বঙ্গলোক’ পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতিতে সত্য প্রকাশে অবিচল থাকার পেছনে যিনি সবচেয়ে বড় নিঃস্বার্থ প্রেরণা ছিলেন তিনি আমার প্রয়াত মা। 


মা বলতেন, ‘সত্যের পথে চলতে গেলে বাধা আসবেই বাবা, কিন্তু পিছু হটা চলবে না।’


মায়ের সেই বাণী আজও আমার কর্মজীবনের মূল শক্তি। আজ মা আমাদের মাঝে নেই কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষা আমার মাঝে জীবন্ত। 

একদিকে প্রবাসের মাটিতে আমার একাকীত্বের লড়াই আর পথচলতি নারীদের মাঝে মায়ের প্রতিচ্ছবি খুঁজে ফেরা। অন্যদিকে দেশে আমার বৃদ্ধ বাবা ওসমান গণির নীরবে কষ্ট সহ্য করে বেঁচে থাকা সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত শূন্যতা আমাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফেরে।


আজ এই লেখার উছিলায় মহান আল্লাহর দরবারে আমার মরহুম মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং বাবার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনা করছি। সেই সাথে পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা এবং ওপারে চলে যাওয়া সকল মা ও বাবা যেন সবসময় ভালো থাকেন, শান্তিতে থাকেন এই মোনাজাত ও কামনা করি। 


সন্তানের পরম ছায়া হিসেবে পৃথিবীর সকল বাবা-মায়ের মঙ্গল হোক, সকলের কল্যাণ হোক। মায়ের পবিত্র স্মৃতি এবং বাবার প্রতি গভীর ভালোবাসা বুকে নিয়েই প্রবাসের এই কঠিন পথ পাড়ি দিচ্ছি। মা যেখানেই থাকুন, ওপারে যেন পরম শান্তিতে থাকেন এই প্রার্থনাই চিরকালের।