News update
  • ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়     |     
  • ড্যাব এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান     |     
  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে এনসিপির শীর্ষ নেতারা     |     
  • হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরান-ওমান সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে     |     
  • গ্রিসের উপকূলে ২০২ অভিবাসী উদ্ধার, বাংলাদেশিই ৭২     |     
বঙ্গলোক ডেস্ক প্রথম পাতা 2026-08-08, 9:07am

গ্যাস সংকটে শিল্প উৎপাদনে ধস, রপ্তানি বাজার হারানোর শঙ্কা

untitled-1-copy-bf6f0a72d5f9ee4a4a4f975ac97701711786158473.jpg

ছবি: সংগ্রহীত


তীব্র গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে দেশের শিল্প-কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ক্রেতাদের আস্থা কমে গিয়ে প্রতিযোগী দেশগুলোর কাছে অর্ডার হারানোর আশঙ্কা করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।


মহেশখালীতে ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি এবং সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে।


শিল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ কমে ১ থেকে ৩ পিএসআইয়ের মধ্যে নেমে এসেছে। এ চাপ দিয়ে অধিকাংশ কারখানার বয়লার ও ভারী যন্ত্রপাতি স্বাভাবিকভাবে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখা, কমিয়ে দেওয়া কিংবা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের মতো সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।


বিশেষ করে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ। সেখানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও ঘাটতি রয়েছে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যা চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশ। গ্যাসের অভাবে উৎপাদন সচল রাখতে অনেক কারখানাকে ব্যয়বহুল ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে।


পোশাক খাতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব


গ্যাসনির্ভর ডাইং, ওয়াশিং ও ফিনিশিং ইউনিটগুলো সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব কারখানায় উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এতে পোশাক প্রস্তুতকারকদের নির্ধারিত সময়ে ক্রেতাদের অর্ডার সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।


রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোর জন্য সময়মতো শিপমেন্ট নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদন ও সরবরাহে বারবার বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বিকল্প সরবরাহকারীর দিকে ঝুঁকতে পারেন। এতে শুধু তাৎক্ষণিক অর্ডার নয়, দীর্ঘমেয়াদে ক্রেতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।


একাধিক শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত


শুধু পোশাক খাত নয়, গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে রড, স্পিনিং, সিরামিক, ওষুধ, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন শিল্পে। রড উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় নির্মাণ খাতে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।


অন্যদিকে স্পিনিং ও সিরামিক শিল্পের মতো গ্যাসনির্ভর খাতগুলোও উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। কিছু কারখানা ধাপে ধাপে উৎপাদন সীমিত করছে, আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখার পথে হাঁটছে।


অর্ডার চলে যেতে পারে প্রতিযোগী দেশে


বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়ার সুযোগ নিতে প্রস্তুত রয়েছে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো। ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো বাংলাদেশের কাছ থেকে সরে যাওয়া অর্ডার নিজেদের বাজারে টেনে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।


শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সাধারণত নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ, উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যকে গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশের কারখানাগুলো যদি জ্বালানি সংকটের কারণে নিয়মিত উৎপাদন ও শিপমেন্ট নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে ক্রেতাদের একটি অংশ বিকল্প দেশ বেছে নিতে পারেন।


শ্রমিকদের ওপরও পড়ছে প্রভাব


উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে শ্রমবাজারেও। অর্ডার কমে যাওয়া ও কারখানার উৎপাদন সীমিত করার কারণে কোথাও কোথাও শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।


শিল্প মালিকদের মতে, গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধান করা না গেলে এর প্রভাব শুধু কারখানার উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


তাই শিল্প খাতকে সচল রাখতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা, এলএনজি অবকাঠামোর কারিগরি সমস্যার সমাধান এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।