
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক গণভবনে নবস্থাপিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে দলটির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে তারা জাদুঘরটি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন দলে নাহিদ ইসলাম ছাড়াও ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য সারোয়ার তুষার, মাহিন সরকারসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
এনসিপির নেতারা সাধারণ দর্শনার্থীদের মতো টিকিট কেটে জাদুঘরে প্রবেশ করেন। পরে তারা জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এ সময় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ের স্মারক, আলোকচিত্র, দলিলপত্র, অডিও-ভিজ্যুয়াল উপকরণ এবং আন্দোলনে শহীদদের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত সামগ্রী দেখেন তারা।
পরিদর্শন শেষে এনসিপির নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনের পটভূমি, ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণ এবং শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তারা আরও বলেন, একটি গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস শুধু স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রামাণ্য দলিল, ছবি ও অন্যান্য ঐতিহাসিক উপকরণের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে সাবেক গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এর আগে গত ১ জুলাই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছিলেন। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
শনিবারের পরিদর্শনে এনসিপির নেতারা সাধারণ দর্শনার্থীদের সঙ্গে একইভাবে জাদুঘর ঘুরে দেখেন। ফলে জাদুঘরটি চালুর পর রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষ নেতাদের অন্যতম প্রথম দলীয় পরিদর্শন হিসেবেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।